অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতবর্ষে একসময় জনসংখ্যা বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। ৬০-এর দশকের শেষের দিকে “হাম দো হামারে দো” স্লোগানের সাথে তৎকালীন সরকার সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করেছিল। এই লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে দেশের বহু দম্পতি একটিমাত্র সন্তান নিতে শুরু করে। তবে এখন দেশের একটি সম্প্রদায় নিজেদের জনসংখ্যা হ্রাস পেতে দেখে, এই সম্প্রদায়ভুক্ত দম্পতিদের যত বেশি সম্ভব সন্তান নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, তৃতীয় সন্তানের জন্মের (Third Child Birth) জন্য ৫০,০০০ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট ও পুরস্কার ঘোষণা করাও হয়েছে।
গুজরাটের কেকেপিএস সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য বিশেষ ঘোষণা
নিজেদের সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুজরাটের কচ্ছ কড়ভা পাটিদার সমাজ (KKPS) একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে, এই সম্প্রদায়ের যেসব দম্পতির তৃতীয় সন্তান হবে, তাদের সন্তানের নামে ১০ বছরের মেয়াদি ৫০,০০০ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট (FD) দেওয়া হবে। সম্প্রতি দক্ষিণ গুজরাটের একটি আঞ্চলিক সভায় এই প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তরুণ দম্পতিরা হয় একটি সন্তান নিচ্ছেন কিংবা একেবারেই কোনো সন্তান নিচ্ছেন না, যার ফলে তাদের জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আর কিছু বছর এরকম চলতে থাকলে তাদের সম্প্রদায় খুব ছোট হয়ে যাবে।
এই গোষ্ঠীর নেতারা জানাচ্ছেন, বর্তমানে দক্ষিণ গুজরাটে কেকেপিএস সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ রয়েছেন প্রায় ১৭,০০০ এবং তা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, তাই কড়ভা পাটিদার সমাজ তৃতীয় সন্তান গ্রহণে দম্পতিদের উৎসাহিত করার জন্য এই প্রকল্পটি চালু করেছে এবং এও ঘোষণা করেছে যে, তৃতীয় সন্তানের পিতামাতাদের একটি বিশেষ জনসভা আয়োজন করে সম্মানিতও করা হবে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই বন্ধ হবে বাংলার ৩০০ মাদ্রাসা! বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের
সম্প্রদায়ের নেতাদের মতে, এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো ধর্ম, জাতি ও বয়সের ভিত্তিতে তৈরি জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা দূর করা ও তরুণ সদস্যদের বড় পরিবার গঠনে উৎসাহিত করা। কেকেপিএস-এর দক্ষিণ গুজরাট অঞ্চলের সহ-সভাপতি জাভেরিলাল রামানি জানান, তারা সাম্প্রতিককালে লক্ষ্য করেছেন যে, তাঁদের সম্প্রদায়ের যুবক-যুবতীদের হয় কোনও সন্তান হচ্ছে না, কিংবা মাত্র একটি সন্তান হচ্ছে। ফিক্সড ডিপোজিট প্রদানের মাধ্যমে সেই সমস্ত দম্পতিদের আরও সন্তান নিতে উৎসাহিত করাই কড়ভা পাটিদার সমাজের এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।










