হিন্দুধর্ম ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’, ইসলাম ধর্ম ‘একান্তবাদী’! হাইকোর্টের মন্তব্যে বিতর্ক

Published:

Madras High court

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার ধর্ম নিয়ে বড় মন্তব্য মাদ্রাজ হাইকোর্টের (High Court)। মূলত হিন্দুধর্মকে (Hindus) ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এবং ইসলাম, খ্রিস্টান সহ আব্রাহামিক ধর্মগুলিকে মৌলিকভাবে ‘একেশ্বরবাদী’ ও ‘কান্তবাদী’ বলে উল্লেখ করল আদালত। তামিলনাড়ুর কোডাইকানালে একটি ট্রাস্টের বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় শুনানি চলাকালীন হিন্দুধর্ম সহ বাকি ধর্মগুলিকে নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। আদালতের বিচারপতিদের এই মন্তব্যের পরই অবশ্য তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের মন্তব্যে বিতর্ক

Bar And Bench এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কানজিয়ন পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে একটি জেন মেডিটেশন সেন্টার এবং মন্টেসরি স্কুল। মূলত স্কুল দুটি চালানোর জন্য বিদেশি অনুদান পেতে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধনের আবেদন জানিয়েছিল তারা। তবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন খারিজ করে দিতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ওই ট্রাস্ট। ট্রাস্টটির বক্তব্য ছিল, তাদের কাজ মূলত জেন ধ্যানচর্চার সঙ্গে যুক্ত এবং সেগুলিকে একেবারেই ধর্মীয় কার্যকলাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই ট্রাস্টের একটি ধর্মীয় দিক রয়েছে। এই ঘটনায় আদালত জানিয়েছে, জেন বৌদ্ধ দর্শনের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতিষ্ঠান নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আদালতের বক্তব্য, আবেদন করার সময় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চরিত্র এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে জানানো প্রয়োজন।

শুনানি চলাকালীন আদালতের তরফে এও জানানো হয়, ধর্মান্তরের কাজে বিদেশি অনুদান ব্যবহার করা হলে তা এফসিআরএ-র অধীনে বিবেচিত হবে। বিচারপতিদের দাবি, এই ধরনের অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওই ট্রাস্টের ধর্মান্তরের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য আছে এমনটা অভিযোগ করছে না তারা।

আরও পড়ুন: বাসের পারমিট করিয়ে দিতে ৯০ হাজার টাকা ঘুষ, হাতেনাতে গ্রেফতার RTO অফিসার সহ এক দালাল

এই মামলার শুনানিতেই আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, “হিন্দুধর্ম মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং খ্রিস্টান, ইসলাম সহ আব্রাহামিক ধর্মগুলি সাধারণত মৌলিক দিক থেকে একেশ্বরবাদী ও কান্তবাদী।” এদিন আদালত ভারতীয় বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে মন্তব্য করার পর শেষ পর্যন্ত ট্রাস্টটির এফসিআরএ নিবন্ধন সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

google button