বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সহ বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে কার্যত পঙ্গু হয়ে গিয়েছে মালদ্বীপ (Maldives)! তাই বাঁচতে ভারতের সাহায্য চাইছে দীপরাষ্ট্রটি। ইতিমধ্যেই মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মইজ্জু ভারতের কাছে মুদ্রা বিনিময়ের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। বর্তমানে সেই অনুরোধ বিবেচনা করে দেখছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিভিন্ন নিয়মকানুন এবং কঠোর শর্তাবলির কারণে ভারতের পক্ষে মালদ্বীপের এই অনুরোধ মঞ্জুর করা বেশ কঠিন।
মালদ্বীপের অনুরোধ রাখবে ভারত?
কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, মালদ্বীপ আরও একবার ভারতকে কারেন্সি সোয়াপ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। তবে ভারতীয় নিয়ম বলে, টাকা তোলার মাঝে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। তাছাড়াও রোল ওভারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। মূলত এই প্রযুক্তিক বিষয়গুলি ভারতের পক্ষে নতুন করে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করার কাজটা যথেষ্ট কঠিন করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি মালদ্বীপের অনুরোধ মানতে না পারে এবং শেষ পর্যন্ত মুদ্রা বিনিময়ের সুবিধার মেয়াদ না বা অর্থ পরিশোধ করার মেয়াদ না বাড়ায় সে ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে আরও দুরবস্থা হবে মালদ্বীপের। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে নয়া দিল্লি!
মালদ্বীপকে বাঁচাতে বারবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভারত
অর্থনৈতিক দিক থেকে ধুঁকতে থাকা মালদ্বীপকে বাঁচাতে বারবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভারত। বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে নয়া দিল্লির তরফে। এরমধ্যে 2024 সালের অক্টোবর মাসে ভারত 400 মিলিয়ন ডলারের একটি কারেন্সি সোয়াপ সুবিধা প্রদান করেছিল মালদ্বীপকে। কঠোর নিয়ম কানুন এর মধ্যেও এটি দুবার নবায়ন করা হয়েছিল। এরপর 2025 সালের মে মাসে এবং সেপ্টেম্বরে ভারত 50 মিলিয়ন ডলার করে দুটি সুদহীন ট্রেজারি বিলের মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়িয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়, গত বছর জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মালদ্বীপ সফর করার সময় রাষ্ট্রটির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য 565 মিলিয়ন ডলারের একটি ক্রেডিট লাইন এবং ঋণ পরিশোধের শর্ত শিথিল করার ঘোষণা করেছিলেন। বলা যেতে পারে সবদিক থেকেই প্রতিবেশী দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ভারত। তবে এবার মালদ্বীপের নতুন অনুরোধ ভারতের তরফে রাখা হবে কিনা তা নিয়ে বেশ সংশয় রয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: বদলে যাবে ভারতের ভবিষ্যৎ? এই রাজ্যে মিলেছে টন টন সোনার ভান্ডার
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন রেটিং এজেন্সিগুলির দাবি, মালদ্বীপের অবস্থা এখন অত্যন্ত খারাপ। আর্থিক দিক থেকে কার্যত ভেঙে পড়েছে এই দেশ। ফিচ রেটিংস মালদ্বীপের সর্বভৌম রেটিং সিসিতে অপরিবর্তিত রেখেছে। যা ঋণ খেলাপির বিষয়টিকে নির্দেশ করে। এছাড়াও মুডিসও মালদ্বীপকে যে CAA2 রেটিং দিয়েছিল সেটা অপরিবর্তিত রেখেছে। মালদ্বীপকে প্রায় 1 বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হতো। যার মধ্যে 500 মিলিয়ন ডলার সুকুক বন্ড এবং ভারতের সাথে 400 মিলিয়ন ডলারের কারেন্সি সোয়াপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যা চলতি এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ করে দেওয়ার কথা। যদিও মালদ্বীপের তরফে এপ্রিলের প্রথম দিন বন্ডগুলির প্রাপ্য অর্থ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি এখন ভারতের দেওয়া অর্থ।










