আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya) কাছ থেকে ব্যাংকের পাওনা টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) নেতৃত্বাধীন ব্যাংকগুলির কনসোর্টিয়াম বম্বে হাইকোর্টকে জানিয়েছে, বিজয় মালিয়ার কাছ থেকে আরও ৮,৭৫১.৮৬ কোটি টাকা আদায় করা বাকি রয়েছে। ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এই হিসাবের মধ্যে আইনি ও অন্যান্য খরচ ধরা হয়নি। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলি জানিয়েছে, ডেট রিকভারি অফিসারের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০,২৭০ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এই বিপুল টাকার পরিমাণ নিয়ে ব্যাংকগুলির কী বক্তব্য?
১০,২৭০ কোটি টাকা উদ্ধার হওয়া এবং এখনও ৮,৭৫১.৮৬ কোটি টাকা বাকি থাকার বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকগুলির বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংকগুলির আগের হলফনামায় প্রায় ৮,১৩৫.৬৩ কোটি টাকা বকেয়া থাকার কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অ্যাক্রুয়ালস যুক্ত হওয়ায় ৩১ আগস্ট সেই বকেয়া বেড়ে ৮,৭৫১.৮৬ কোটি টাকা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের আগেই আরও ৫৪৪.৫৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিজয় মালিয়ার পুরনো দাবি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২০ সালে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা বন্ধ করার আবেদন করেছিলেন। মালিয়ার বক্তব্য ছিল, ব্যাংকগুলি তাঁর দায়ের তুলনায় বেশি টাকা ও সম্পদ উদ্ধার করে ফেলেছে এবং সেই কারণে ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর আর্থিক বিরোধ মিটে গিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক হলফনামায় এসবিআই-নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম সেই দাবির বিরোধিতা করেছে। ব্যাংকগুলি আরও জানিয়েছে, মামলায় সংযুক্ত করা কিছু শেয়ার এখনও বিক্রি করা হয়নি। ফলে সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টকে জামিন নিয়ে পরামর্শ দিয়ে বিপাকে পড়লেন বাংলার ট্রায়াল কোর্টের বিচারক
অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-ও আদালতে আলাদা অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, প্রায় ১৪,১৩১.৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এসবিআই-নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইডির বক্তব্য, ব্যাংকের বকেয়া উদ্ধার হওয়া মানেই বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে চলা মানি লন্ডারিং-সহ ফৌজদারি মামলা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অর্থাৎ, ব্যাংকের টাকা উদ্ধারের বিষয়টি এবং মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলাগুলিকে এবার সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখা হবে। বম্বে হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর হওয়ার কথা রয়েছে।










