গোহত্যায় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল হাইকোর্ট, রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে বিজয় সরকার

Published:

Supreme Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে গোহত্যা নিষিদ্ধ করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গেল বিজয়ের টিভিকে সরকার। আসলে গত মে মাসে মাদ্রাজ হাইকোর্ট দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি আর গ্রামীণ অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৬ সালে জারি করা সরকারি আদেশ কার্যকর করে গোটা রাজ্যজুড়ে গরু এবং বাছুর হত্যার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ বিজয়ের সরকার।

কী বলেছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট?

গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষীনারায়ণের একটি বেঞ্চ বকরি ঈদের আগের দিন সূর্য প্রশান্তের দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি করেন। মামলাকারী গরু জবাই নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানান। কিন্তু হাইকোর্ট আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্যের যে কোনও স্থানে গরু এবং বাছুর জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক শক্তিশালী করার জন্যই এই রায়। এমনকি আদালত সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের উল্লেখ করে বলে, গরু জবাই বকরি ঈদের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ধর্মীয় রীতি নয়।

কিন্তু মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া সেই রায়ের বিরুদ্ধে এবার তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবেদন করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ যুক্তিযুক্ত নয়। এমনকি টিভিকে সরকার যুক্তি দেয়, পুলিশ তাদের পাল্টা হলফনামায় স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, প্রকাশ্য এলাকায় যাতে কোনও পশু জবাই না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং আইন অনুযায়ী যে কোনও ধর্মীয় বলিদান শুধুমাত্র অপ্রকাশ্য স্থানে সম্পন্ন করা যাবে। কিন্তু আদালত সম্পূর্ণ অন্য রায়ের পথে হেঁটেছে।

আরও পড়ুন: স্কুলে যেতে প্রত্যেক পড়ুয়াকে ইলেকট্রিক সাইকেল দেবে কেন্দ্র? জানাল সরকার

এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, তামিলনাড়ু সরকার জানায় যে, ১৯৫৮ সালের আইনের সঙ্গে হাইকোর্টের রায় সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, সেই রায়ে নির্দিষ্ট শর্তে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীকে গরু জবাই করার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি ওই জনস্বার্থ মামলাটি কোয়েম্বাটুরে বকরি ঈদের সময় প্রকাশ্য স্থানে গরু জবাই প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সেই মামলার পরিধি প্রসারিত করে নির্ধারিত কসাইখানা সহ সম্পূর্ণ রাজ্যে গোহত্যার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়। সেই কারণেই সরকারের পাল্টা চ্যালেঞ্জ।

google button