“শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বেআইনিভাবে আটক নয়” দিল্লি কাণ্ডে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সিজেপির বিক্ষোভে গতকাল রাজধানীতে তৈরি হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। ককরোচদের নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রঙ্কা, সৌরভ দাসদের তো বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তার আগে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় ইউটিউবার ধ্রব রাঠিকে। অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ জমায়েতের মধ্যেই আটক করা হয় বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য রাজ্যের মোট চারজন মুখ্যমন্ত্রীকে। এবার তা নিয়ে বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

শান্তিপূর্ণ জমায়েতে আটক নয়: সুপ্রিম কোর্ট

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে যন্তর মন্তর ২.০ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে বিক্ষোভের আঁচ বুঝে আগে থেকেই রাজধানীকে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলে দিল্লি পুলিশ। একের পর এক বিক্ষোভকারীকে করা হয় আটক। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচি আটকাতে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয় মামলা। আর সেই মামলার শুনানিতেই রবিবার বড় নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে আজ জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না এবং রাজধানীতে মেট্রো এবং রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। এর পাশাপাশি দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা অবিলম্বে চালুর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে এই মামলা। সেখানে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, শীর্ষ আদালতের বাইরে থাকা বিএনএস ১৬৩ নম্বর ধারার বোর্ড সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে ন্যায়বিচারের পথে কোনও রকম বাধা সৃষ্টি না হয়।

আরও পড়ুন: ফের অভিষেকের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ, এবার কী কারণে?

আদালত জানিয়েছে, নিতান্ত প্রয়োজন না পড়লে অবিলম্বে রাস্তাঘাট থেকে পুলিশের ব্যারিকেড সরাতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে বিনা বাধায় চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকেই। একইসঙ্গে রাজধানীতে মেট্রো এবং ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নোটিশ জারি করে দিল্লি পুলিশ, দিল্লি মেট্রোসহ সমস্ত পক্ষের জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তার মধ্যেই জবাব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি ভি মোহনা। এমনকি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা যেতেই পারে। তবে আইন ভঙ্গ করা চলবে না।

google button