সারা ভারতে চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন? আপনার এলাকায় কবে?

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) হাত ধরে প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন (Hydrogen Train) পেয়েছে ভারত। গত জুলাই মাসের 17 তারিখ, হরিয়ানার জিন্দ রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে এই ট্রেন উত্তর রেলওয়ের 89 কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে ছুটছে। ভারতীয় রেলের জন্য এই হাইড্রোজেন ট্রেন একটি বিরাট মাইলফলক বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। তবে ক্ষুদ্র পরিসরের বদলে বৃহৎ পরিসরে অর্থাৎ গোটা দেশ জুড়ে কবে চালু হবে হাইড্রোজেন ট্রেন? আদৌ গোটা ভারতে ছুটবে জল দ্বারা চালিত এই ট্রেন? চলবে আপনার এলাকাতেও?

গোটা ভারতে চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন?

অন্যান্য ট্রেনের মতো এই ট্রেনটি ডিজেল পুড়িয়ে বা বিদ্যুতের সাহায্যে চলে না! বরং ট্রেনটির ট্যাঙ্কে সংরক্ষিত হাইড্রোজেন খরচ করেই নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটে চলে এই ট্রেনটি। এই গোটা প্রক্রিয়ায় প্রথমে ট্রেনের ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই হাইড্রোজেন পাঠানো হয় ফুয়েল সেলে। সেখানে অক্সিজেনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ। পরবর্তীতে ওই বিদ্যুতের দৌলতেই ঘো ওরে মোটর। চলে ট্রেন।

এখন প্রশ্ন, গোটা দেশে কি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানো সম্ভব হবে? বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, শুধুমাত্র হাইড্রোজেন ট্রেন তৈরি করে দিলেই গোটা ভারতে এই ট্রেন চালানো সম্ভব হবে না। বরং এই পরিষেবার জন্য হাইড্রোজেন উৎপাদন, হাইড্রোজেন সংকুচিতকরণ, সংরক্ষণ, নিরাপদে পরিবহন এবং সেটি ট্রেনে সংরক্ষণ করার জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আধুনিক পরিকাঠামের প্রয়োজন হবে। এদিকে ভারতে বর্তমানে হাইড্রোজেন সরবরাহের জন্য কোনও পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নেই, ফলে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে হাইড্রোজেন পাঠানোর কাজটা এখন অত্যন্ত কঠিন।

অবশ্যই পড়ুন: পাইপের জল ব্যবহারে এবার দিতে হবে কর! কত করে ট্যাক্স চাপাবে রাজ্য সরকার?

আসলে, ভারতের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের 99 শতাংশ ইতিমধ্যেই বিদ্যুতায়িত। কাজেই এই মুহূর্তে দেশের বৈদ্যুতিক ট্রেনগুলিকে হাইড্রোজেন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলেও তা লাভজনক হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গোটা দেশে হাইড্রোজেন ট্রেন চালাতে হলে প্রথমে দেশের সমস্ত প্রান্তে হাইড্রোজেন পাঠানোর জন্য পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে রেলকে। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক ট্রেনকে হাইড্রোজেন ট্রেনে রূপান্তরিত না করে আলাদাভাবে তৈরি করতে হবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। তবেই গোটা দেশে চালানো সম্ভব হবে এই ট্রেন।