সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিরাট সাফল্য পেল ভারত। হ্যাঁ, দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব এবং ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা বিবেক আগারওয়ালকে (Vivek Aggarwal) বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংস্থা ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন ট্রাস্ট ফোর্সের (FATF) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হল। এই প্রথম কোনও ভারতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদে বসলেন। উল্লেখ্য, এই সংস্থা মূলত সারা বিশ্বের আর্থিক অপরাধ, মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থ যোগানের বিরুদ্ধে লড়াই করে, এবং আন্তর্জাতিক নীতি ও নিয়ম তৈরি করে। সেক্ষেত্রে এই সংস্থার নেতৃত্বে ভারতের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের প্রভাব আরও বাড়াবে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
FATF-এ ভারতের বিরাট সাফল্য
বিবেক আগরওয়ালের এই নিয়োগকে ভারতের আর্থিক স্বচ্ছতা আর সন্ত্রাসবাদে অর্থ যোগান বন্ধ করার প্রচেষ্টার প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রেমেন্ট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা নতুন ধরনের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে FATF এর নীতি নির্ধারণে ভারত আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
না বললেই নয়, FATF এর নাম শুনলেই সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কারণ, এই সংস্থার নজরদারিতে আগে পাকিস্তান একাধিক বার এসেছে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এই সংস্থার গ্রে লিস্টে ছিল। কোনও দেশ এই তালিকায় থাকলে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে বাড়তি নজরদারি দেয়। উল্লেখ্য, FATF এর গ্রে লিস্টে থাকা দেশের ক্ষেত্রে আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়। পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেনে অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ভারতে বদলে গেল আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময়, সোমবার কখন নামছেন মেসিরা?
কে এই বিবেক আগারওয়াল?
জানিয়ে দিই, বিবেক আগারওয়াল একজন অভিজ্ঞ আইএএস কর্মকর্তা। তিনি ১ জুন ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি কমার্স এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। আর প্রশাসনিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। এর আগে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে এমনকি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল থেকেই তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।










