সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ৪ বছরের একটি দুধের শিশুর বুকে সজোরে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে। এমনকি সেখানে দাবি করা হচ্ছে, যে মহিলা ওই শিশুটিকে লাথি মারছেন, তিনি একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। আরও দাবি করা হয়, ওই শিশুটি নাকি অঙ্গনওয়াড়িতে যেতে রাজি না হওয়ার কারণেই মহিলাটি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বুকে লাথি মারে। মাত্র ৪ বছর বয়সী একটি শিশুর উপর এরকম নিষ্ঠুরতার ভিডিও ভাইরাল হতেই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নেট নাগরিকরা। তবে আসল সত্যি জানলে আকাশ থেকে পড়বেন!
আসলে কে ওই মহিলা?
আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওটি শেয়ার করা হচ্ছে সেখানে দাবি করা হচ্ছে, শিশুটির বুকে লাথি মারা মহিলাটি একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। কিন্তু আদতে তা নয়। এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। শিশুটির বুকে যে মহিলা লাথি মেরেছিলেন, সে আসলে তাঁর নিজের মা। আসল তথ্য সামনে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এমনকি স্থানীয় থেকে শুরু করে নেট নাগরিকরা ওই মহিলার কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে নিজের সন্তানের সঙ্গে এরকম আচরণ তিনি?
জানা গিয়েছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে নভি মুম্বাইয়ের পানভেলের নন্দগাঁও গ্রামের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে। যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মহিলাটি সজোরে ওই ছোট্ট শিশু মেয়েটির বুকে একটি লাথি মারেন, এবং শিশুটি অঙ্গনওয়াড়ির গেটের সিঁড়ির উপর পড়ে যায় এবং কাঁদতে থাকে। তবে সৌভাগ্যবশত শিশুটির সেরকম কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, এবং চোটও লাগেনি। কিন্তু ভিডিও ভাইরাল হতেই কঠোর ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। দ্রুত পানভেল সিটি পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারেন যে ওই মহিলা আসলে শিশুটির মা, এবং তৎক্ষণাৎ তাঁকে আটক করা হয়।
Update : A video recorded in Nandgaon village, Panvel, on June 25 showed a woman in a red dress allegedly shoving and kicking her young daughter, causing the two-year-old to tumble down concrete steps outside a center.
The incident was initially believed to involve an Anganwadi… https://t.co/HRKojAAokD pic.twitter.com/oZRkbKcJpx
— Hate Detector 🔍 (@HateDetectors) June 26, 2026
আরও পড়ুন: এক ফোনেই হবে সমস্যার সমাধান! জুলাই থেকে চালু হচ্ছে পুরমন্ত্রীর ‘মুখোমুখি’
তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই মহিলা পুলিশের সামনে তাঁর এই অপকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাঁর মেয়ে অঙ্গনওয়াড়িতে যেতে রাজি হচ্ছিল না। বারবার বলাতেও কাজ হচ্ছিল না। সেই কারণে হঠাৎ করে তিনি প্রচণ্ড রেগে যান, এবং রাগের মাথায় মেয়েকে লাথি মারেন। যদিও পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেছে শিশু কল্যাণ কমিটিতে। এবং কমিটির তরফ থেকে ওই মহিলার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে।










