২২ দিন নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, প্রজননের মরশুমে মা ইলিশ বাঁচাতে শুরু তৎপরতা

Published:

Ilish Hilsa Fishing

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষা বিদায় নিচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই। তবে অক্টোবরের শেষ অবধি ইলিশের (Ilish) প্রজনন মরশুম চলবে। তাই মা ইলিশকে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশে নদীগুলিতে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বুধবার, ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে, চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ইলিশের মরশুম প্রায় শেষ হয়ে এলেও, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ না মেলায় হতাশ বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা। গত তিন মাসে ইলিশ উত্তোলন গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। এদিকে, তহবিলের অভাব ও লোকসংকটের কারণে এবছর মা ইলিশ সুরক্ষার ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মা ইলিশ বাঁচাতে মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিভাগে ৬৫,৩৬৪ টন ইলিশ মাছ আহরণ করা হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৭৫,৩৩১ টন। বাংলাদেশে এবছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্য ৬ লাখ টন, যার মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকে ৪ লাখ টন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ক্রেতারা ভিড় জমিয়েছিলেন, কিন্তু ইলিশের মজুত থাকলেও দাম ছিল চড়া। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২,৫০০ টাকায়। ছোট আকারের ৮০০-৯০০ গ্রামের মাছ ২,২০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন যে, নিষেধাজ্ঞার আগেও নদীতে মাছের ঘাটতি ছিল, তাই দাম কোনোভাবেই কমানো যায়নি।

প্রসঙ্গত, এই প্রজনন মরশুমে মৎস্য বিভাগ হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বিশেষ নজরদারি চালাবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে দুটি লঞ্চ ও কয়েকটি স্পিডবোট মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ ও লোকবল না থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গত জুন মাসে শেষ হওয়ায় অভিযানের ব্যয় এখন রাজস্ব বাজেট থেকে মেটাতে হবে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ডা. হাদিউজ্জামান। তাঁর কথায়, আগের বাজেটে নৌকার জ্বালানি হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে মাত্র দুই দিন চলবে। তাই কীকরে ২২ দিনের অভিযান চলবে সেই নিয়ে সংশয়ে তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২৫ দিনের কাজে পিছিয়ে হাজার পঞ্চায়েত, বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার

উল্লেখ্য, মা ইলিশ রক্ষায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, বরিশালে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার মা-ইলিশের সুরক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

google button