হাসিনা ভারত ছাড়ার আগেই হঠাৎ পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, কোন দিকে ঘুরছে খেলা?

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতে যখন জেন জি আন্দোলন চলছে ঠিক সেই সময় হঠাৎ পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহবুদ্দিন (Bangladesh President)। শুক্রবার নিজে থেকেই বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র দিয়ে এসেছেন ওপার বাংলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। জানা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার আমলে নিযুক্ত হওয়া এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ছিল 2028 সালের এপ্রিল পর্যন্ত। সেই মেয়াদ পূরণের অনেক আগেই নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন সাহবুদ্দিন। কারণ কী?

শেখ হাসিনা ভারত ছাড়ার আগেই ইস্তফা কেন?

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই পতন ঘটেছিল বাংলাদেশের শেখ হাসিনা শাসনের। আর ঠিক সেই শাসনকালে 2023 এ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই সাহবুদ্দিন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একেবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওপার বাংলার রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন তিনি। তবে হাসিনার পতনের পর থেকেই সাহবুদ্দিনের নিয়োগ নিয়ে উঠেছিল নানান প্রশ্ন।

প্রশ্ন উঠেছিল, দুর্নীতি নিয়েও। অভিযোগ ছিল রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বাংলাদেশ থেকে হাসিনার সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। অনেকেই তাঁকে, হাসিনাপন্থি বলেই অভিহিত করেন। সেই সাথেই সাহবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি ক্রমশ জোরালো হতে শুরু করে। এর আগে মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে শোনা গিয়েছিল নিজে থেকেই নাকি ইস্তফা দিতে চাইছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। সেই জল্পনা পেরিয়ে দীর্ঘ সময় পর হাসিনা ভারত ছাড়ার আগেই অবশেষে স্পিকারের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।

অবশ্যই পড়ুন: কলকাতায় ককরোচদের মিছিলে ঢুকে পুলিশের উপর হামলা অ্যান্টি ন্যাশনালদের!

অনেকেই মনে করছেন, গোটা বাংলাদেশ জুড়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি দিন দিন জোরালো হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে দিলেন সাহবুদ্দিন। সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ পূরণের আগে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সেই দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় স্পিকারের উপরেই। পরবর্তী 90 দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানে। সংসদের সদস্যরাই ওপার বাংলায় নতুন রাষ্ট্রপতি বাছবেন। তবে বাংলাদেশের পরবর্তী  রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা আপাতত জানা যায়নি।