অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষা পড়তেই বাজারে বাজারে ইলিশের (Hilsa) খোঁজ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। এবছর এখনও পর্যন্ত সমুদ্র থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ (Ilish) ওঠেনি। অন্যদিকে বাংলাদেশে (Bangladesh) গত দু’দশক ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পর হঠাৎই গত তিন বছর ধরে উৎপাদনের হারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে। এমনকি মাছের গড় ওজনও হ্রাস পাচ্ছে। এই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে গবেষক মহলে। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি যে প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, সেটিও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এবছর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরকারি পর্যায়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প ব্যর্থ
বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেন। এরপর আশা করা হয়েছিল ইলিশের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে। কিন্তু এর বদলে কমতে শুরু করেছে মাছের উৎপাদন। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন যে, গত কুড়ি বছর যেভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছিল, সেটি এখন ধরে রাখাই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নানা কারণে। ইলিশ গবেষক ও মৎস্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক ডঃ আনিসুর রহমান বলেন, বড় ইলিশ আসছিল, কিন্তু সেটা হঠাৎ করে কেন কমে গেল, তা শনাক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। বাজারে বড় ইলিশের বদলে বাড়ছে ছোট ইলিশের সংখ্যা, এটা মাছের সংখ্যা কমার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ির অদূরেই প্রকৃতির কোলে ‘ঋজুদার লবঙ্গির জঙ্গল’, বর্ষায় ঘুরে আসুন সাতকোশিয়া
জানিয়ে রাখি, দেশের মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশই ইলিশ মাছ থেকে আসে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট। এছাড়া, সারা পৃথিবীতে যত ইলিশ পাওয়া যায়, তার ৬০ ভাগই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। এদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশেই হয়।










