বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার জেনজি আন্দোলনে উত্তাল জার্মানি (Germany)। উন্নত শিক্ষা থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জার্মানির রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী (Germany Protest)। আর সেই বিক্ষোভ ঘিরেই একপ্রকার দাঙ্গার ছবি ধরা পড়ল দেশটিতে। জার্মানির যুবদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দাঙ্গা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে সে দেশের মুসলিম শরণার্থীদের বিরুদ্ধে। গতকাল অর্থাৎ শনিবার, জার্মানির অন্তত 34টি শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিক্ষোভ কর্মসূচি।
জেনজি আন্দোলনে উত্তাল জার্মানি!
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার জার্মানির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট সহ 34টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দিন দিন শিক্ষা ক্ষেত্রে থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েই চলেছে। সেদিকে নজর নেই সরকারের। আমজনতার কথা ভাবেই না সে দেশের প্রশাসন! এদিন সকাল থেকে হাতের প্ল্যাকার্ড ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভের ঝাঁঝ বাড়াতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। তবে বেলা গড়াতেই বিক্ষোভের ছবিটা বদলে যায় দাঙ্গায়!
জানা যাচ্ছে, এদিন ফ্রাঙ্কফুর্ট এর একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আগুন। বিভিন্ন শহরে অগ্নি সংযোগের ঘটনাও ঘটে। যার ফলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে বিরাট পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হয়, জলকামান থেকে শুরু করে পেপার স্প্রে। বাধ্য হয়ে লাঠি পর্যন্ত চালায় পুলিশ। এদিকে পাল্টা হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরাও। হামবার্গে পুলিশের ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর সামনে আসে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সাথে দফায় দফায় খন্ডযুদ্ধ বাঁধে আন্দোলনকারীদের। তাতে অনেকেরই আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
এখানেই শেষ নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর এমনকি পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, পুলিশের উপর ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে হামলা চালানো হচ্ছে। একই সাথে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী যুবদের আন্দোলনকে হাতিয়ার বানিয়ে দেশটিতে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও জানায় স্থানীয় প্রশাসন। তাছাড়াও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে দাঙ্গার রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে জার্মানির মুসলিম শরণার্থীদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: দাস প্রথার জন্য ভারত সহ ৫৬টি দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে চলেছে ব্রিটেন, বড় ঘোষণা
এদিকে বিক্ষোভকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে জীবন যাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। অতিরিক্ত খরচ সত্ত্বেও সেভাবে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা। বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, সরকার সাধারণ মানুষের কথা একটুও ভাবে না। শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সাথে প্রতিদিন অন্যায় করছে সরকার! ওয়াকিবহাল মহলের কেউ কেউ আবার মনে করছেন, নেপাল, বাংলাদেশের মতোই জার্মানিতেও সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য চক্রান্ত করছে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী।










