সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজনৈতিক হিংসায় মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি (Government Job) দেওয়া হবে, এ কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আগে কিংবা ভোট পরবর্তী হিংসা, দল-মত নির্বিশেষে নিহত পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রুপ ডি চাকরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে এবার নবান্নের তরফ থেকে সেই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল, যেখানে জানানো হয়েছে, পরিবারের কারা চাকরি পাবেন, কোন পদে চাকরি দেওয়া হবে এবং আবেদন পদ্ধতি।
রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে চাকরি
২০০১ সালের ১ জানুয়ারি কিংবা তার পরে যারা রাজনৈতিক হিংসার জেরে নিহত হয়েছে, তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে এই সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। তবে এই চাকরির জন্য আলাদাভাব জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে বলেই জানিয়েছে সরকার। গ্রুপ ডি পদে দেওয়া হবে এই চাকরি। সেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির স্বামী কিংবা স্ত্রী, ছেলে বা মেয়ে সরাসরি আবেদন করতে পারবে। পাশাপাশি মৃত্যুর আগে আইনত দত্তক নেওয়া ছেলে-মেয়েরাও আবেদন করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এই বিশেষ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কিম ফর প্রোভাইডিং গভর্নমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট (গ্রুপ ডি) টু ওয়ান এলিজিবল ফ্যামিলি মেম্বার অফ দ্য ভিকটিম কিল্ড ইন পলিটিকাল ভায়োলেন্স, ২০২৬’। সেক্ষেত্রে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ডিরেক্টরেট, জেলা শাসকের কার্যালয় বা অন্যান্য অফিসে গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ করা হবে এই আবেদনকারীদের। এমনকি প্রয়োজনে অতিরিক্ত গ্রুপ ডি পদ তৈরি করবে রাজ্য সরকার, এমনটাই জানানো হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে এই চাকরির জন্য আবেদনকারীকে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাশ করতে হবে বলেই জানানো হয়েছে। তাছাড়া ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি হিসেবে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮ বছর। এছাড়া গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা মানতে হবে। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে জেলাস্তরের কমিটি। এর পাশাপাশি পরিবারের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে এই চাকরিতে আবেদন করা যাবে না বলেই জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মালবোঝাই ট্রাকের চাপে নদীতে ভেঙে পড়ল সেতু, মাথাভাঙায় ব্যাহত যাতায়াত
অন্যদিকে পরিবারের কোনও সদস্য যদি ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকেন, তাহলে মিলবে না এই সুবিধা। তাছাড়া কোনও সদস্য আয়কর প্রদান করলেও মিলবে না গ্রুপ ডি চাকরি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যুর ঘটনার প্রমাণ থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে এফআইআর, চার্জশিট বা আদালতে অভিযোগ গঠনের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। আবেদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করেই জমা দিতে হবে। আর সঙ্গে মৃত্যুর শংসাপত্র, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ, এফআইআর, চার্জশিট এবং আদালতে অভিযোগ গঠনের নথি জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রার্থীদের মেডিকেল টেস্ট এবং ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।










