এই এক কারণে ভারতের উপর খুশি হয়ে গেল পাকিস্তান

Published:

Pakistan India

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। সিন্ধু চুক্তি থেকে শুরু করে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে একাধিক ভারত বিরোধী সুর উঠে এসেছিল তাঁর গলায়। তাছাড়াও সীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত জঘন্য জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে (India-Pakistan Relations)। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে, ইসলামাবাদে ধরা পড়ল একেবারে ভিন্ন দৃশ্য।

ভারতের এক কাজেই খুশি হয়ে গেল পাকিস্তান!

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) এর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটরদের তিন দিনের বৈঠক ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন ভারতীয় প্রতিনিধি তথা বিদেশ মন্ত্রকের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ওরফে SCO-র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর আলোক ডিমরি। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরকারি আমলারা।

জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদের ওই এক বৈঠকে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাণিজ্য এবং ট্রানজিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন ভারতের প্রতিনিধি আলোক। ভারতীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, SCO এর মাধ্যমে ইউরেশিয়া এবং এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সমৃদ্ধির মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।

ইসলামাবাদে বিশেষ বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানের উপ-প্র প্রধানমন্ত্রী ইসাক দারের সাথেও দেখা করেছিলেন ভারতের প্রতিনিধি ডিমরি। পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দুজনকে একসাথে করমর্দন করতেও দেখা গিয়েছে। পিটিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ওই ভারতীয় জানিয়েছেন, ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর প্রথম পাকিস্তান সফর অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি ইসলামাবাদে যেতে পেরে প্রচন্ড খুশি। এমনকি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি আমলারাও নাকি ভারতীয় প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎ করে অত্যন্ত খুশি।

ওই সাক্ষাৎকারে ডিমরি ইসলামাবাদের পর লাহোর, ফয়সালাবাদ ও শিয়ালকোট সফরের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, “এই প্রথম আমি পাকিস্তান সফর করছি। ইসলামাবাদে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” ভারতীয় প্রতিনিধি খুব পরিষ্কার ভাবে জানান, লাহোরকে এসসিও সাংস্কৃতিক শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে ডিমরি ইঙ্গিত দেন পাকিস্তানের সভাপতিত্বে আগামী দিনে বিভিন্ন সংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন: “ভারতে আমরা ইসলামের পতাকা উত্তোলন করব” হুমকি বাংলাদেশের ‘মুসলিমদের!’

আসলে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামাবাদে এসসিওর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটরদের তিন দিনের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধির অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই আগামী দিনে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের জট খুলতে পারে বলেও আশাবাদী কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতীয় প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাতের পর বিশেষ বৈঠক শেষে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির কথা আলোচনা করতে পেরে খুশি ইসলামাবাদের প্রতিনিধিরাও!

google button