ভারতের সাথে যুদ্ধ শুরু করলেই পাকিস্তানের জন্য সেনা নামাবে তুরস্ক এবং সৌদি? বড় খবর

Published:

India Mecca Deal

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়ে প্রথমবারের মতো মক্কা চুক্তি (Mecca Deal) কার্যকর করল সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান (Pakistan)। জোট শরিক সৌদির বুকে ক্রমাগত ইয়েমেনের হুথিরা হামলা চালানোয় এবার বন্ধু দেশকে বাঁচাতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান এবং তুরস্ক। দুই দেশই সোমবার, রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি আরবকে সাহায্যের জন্য নিজস্ব সেনাবাহিনী এবং সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের সাথে ভারতের (India) সংঘাত বাঁধলে কি পশ্চিমের দেশের হয়ে ময়দানে নামবে তুরস্ক এবং সৌদি আরব?

পাকিস্তানের হয়ে ভারতের সাথে লড়বে তুরস্ক এবং সৌদি আরব?

গত আগস্ট মাসের 7 তারিখ, মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। এই চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য, তিন দেশের মধ্যে যদি কোনও একটি দেশের উপর হামলা হয় সেক্ষেত্রে বাকি দুই দেশ সেই হামলাকে নিজেদের উপর হওয়া হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। সেই মতোই চুক্তির শর্ত মেনে সৌদির বুকে হওয়া ক্রমাগত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিবাদে এবার একজোট হয়েছে তিন দেশ। সৌদি আরবকে বাঁচাতে সেনা নামাচ্ছে পাকিস্তান। কাজেই মক্কা চুক্তি ভারতের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে!

পাকিস্তান যেহেতু সৌদি আরবে সেনা পাঠিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে ফলে ভারতের সাথে পশ্চিমের দেশের সংঘাত বাঁধলে সৌদি আরব এবং তুরস্কও কি একইভাবে পাকিস্তানে সেনা পাঠাবে? এ প্রসঙ্গে বুক খুলেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন মেজর জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় সোই। নবভারত টাইমসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, “পাকিস্তান এর আগেও সৌদি আরবে অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে। তবে সেনা পাঠানোর বিষয়টি খানিকটা ভিন্ন। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবে সবসময় 10 থেকে 15 হাজার পাকিস্তানি সৈন্য মোতায়েন থাকে।”

আরও পড়ুন: “আমার একটা রেপুটেশন আছে” কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, “পাকিস্তানের সেনারা সৌদি আরবের হয়ে আদৌ সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে নাকি সৌদি আরবের সামরিক পরিকাঠামোর দেখভাল করবে সেটা দেখা প্রয়োজন। তবে আমি মনে করি এই সময় ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করা দরক। আমাদের কাছে অবশ্যই ড্রোন, রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন থাকতে হবে।”

একই সাথে এদিন সুদর্শন চক্র বা রাশিয়ার S-400 এর মতো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজ দ্রুত শেষ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, চিন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা নানান হুমকির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করে জানান, মক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়া মানে ভারতের এবার তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে। তবে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সংঘাত দেখা দিলে তুরস্ক এবং সৌদি আরব সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে ময়দানে নামবে কিনা সেই ছবিটা এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

google button