চিনে নিন চোখের দেখাতেই, দুধে জল মেশানো কিনা বোঝার সহজ উপায়

Published:

milk water

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সকালবেলার চা থেকে শুরু করে শিশুদের জলখাবার, কমবেশি প্রতিটি পরিবারের ক্ষেত্রেই দৈনন্দিন জীবনে দুধের (Milk) বিকল্প নেই। তাই দুধে জল বা অন্য কোনও ভেজাল মেশানো রয়েছে কি না, তা নিয়ে মায়েদের মনে সব সময় চিন্তা লেগেই থাকে। সবসময় পরীক্ষাগারে গিয়ে দুধ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর দেওয়া কিছু সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে বাড়িতে বসেই দুধে ভেজাল আছে কি না সেই সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। জেনে নিন এমনই কয়েকটি উপায়।

ঢালু কাচের সাহায্যে পরীক্ষা

একটি পরিষ্কার, মসৃণ ও পালিশ করা কাচের পৃষ্ঠ সামান্য ঢালু করে নিন। তার উপর এক ফোঁটা দুধ দিন। খাঁটি দুধ সাধারণত জায়গায় থাকে অথবা ধীরে ধীরে গড়িয়ে গিয়ে সাদা দাগ রেখে যায়। অন্যদিকে দুধে জল মেশানো থাকলে তা দ্রুত গড়িয়ে যাবে এবং সাদা দাগ নাও থাকতে পারে। এই পরীক্ষাটি সরাসরি দুধে জল মেশানো হয়েছে কি না বোঝার জন্য FSSAI-এর DART-এ উল্লেখ রয়েছে।

দুধ ভালো করে ফুটিয়ে দেখুন

দুধ ভালো করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করার পর উপরে সর বা ক্রিমের স্তর তৈরি হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। যদি খাঁটি গাঢ় দুধ হয়, তাহলে সর পড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু দুধে যদি জল মেশানো থাকে তাহলে সর পড়বে না। এখান থেকে কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যাবে দুধে ভেজাল রয়েছে কিনা।

দুধের ঘনত্ব ও স্বাভাবিকতা লক্ষ্য করুন

একই ব্র্যান্ড বা একই ধরনের দুধ নিয়মিত ব্যবহার করলে তার স্বাভাবিক ঘনত্ব ও স্বাদ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। হঠাৎ করে দুধ অস্বাভাবিক পাতলা মনে হলে অথবা দুধের টেস্ট ফিকে লাগলে বিষয়টি খতিয়ে দেখুন।

একই দুধ ফুটিয়ে আগের নমুনার সঙ্গে তুলনা করুন

একই ধরনের দুধ নিয়মিত ব্যবহার করলে অল্প পরিমাণ দুধ আলাদা করে ফুটিয়ে তার ঘনত্ব, সর এবং গঠন লক্ষ্য করতে পারেন। নতুন নমুনা যদি আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে পাতলা মনে হয়, তাহলে জল মেশানোর বিষয়ে কিছুটা নিশ্চিত হতে পারবেন।

জলের পাশাপাশি দুধে ডিটারজেন্ট রয়েছে কি না দেখুন

৫ থেকে ১০ মিলিলিটার দুধের সঙ্গে সমপরিমাণ জল মিশিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকান। যদি ঘন ও বেশি পরিমাণে ফেনা তৈরি হয়, তাহলে সেই দুধে ডিটারজেন্ট থাকার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখবেন খাঁটি দুধ ঝাঁকালেও তুলনামূলকভাবে পাতলা ফেনার স্তর তৈরি করে।

আরও পড়ুন: বেতন ৬৪,৮২০! ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় ১১০০ শূন্যপদে নিয়োগ, চলছে আবেদন

এই পরীক্ষাগুলি মূলত প্রাথমিকভাবে দুধে ভেজাল রয়েছে কি না সেই সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য করতে পারেন। তবে কোনও পরীক্ষায় যদি সন্দেহজনক ফল পাওয়া যায়, তাহলে শুধুমাত্র তার ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুধের নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

আরও Milk Water
google button