আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাঙালি নারীর সাজে টিপের (Bindi) গুরুত্ব বরাবরই আলাদা। শাড়ি হোক কিংবা সালোয়ার কামিজ, কপালে ছোট্ট একটি টিপ গোটা সাজটাই বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে টিপের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শুধু বাংলাতেই নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেও নারীদের সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এই টিপ। কোথাও ছোট্ট গোল টিপ, কোথাও আবার লম্বা কিংবা নকশা করা টিপের চল রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিপের রং, আকার ও নকশায় এসেছে নানা পরিবর্তন। এখন পোশাকের সঙ্গে মানানসই টিপ বেছে নেওয়ার পাশাপাশি ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখেও অনেকে টিপ পরেন।
মুখের গড়ন অনুযায়ী বেছে নিন পছন্দের টিপ
তবে টিপ পরলেই যে সবার মুখে একই রকম সুন্দর দেখাবে, এমনটা কিন্তু নয়। অনেকের কপালে ছোট্ট একটি টিপেই মুখের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, আবার কারও ক্ষেত্রে সেই একই টিপে মুখের গড়ন অন্যরকম দেখাতে পারে। এর কারণ টিপের আকার ও নকশার সঙ্গে মুখের আকৃতির সামঞ্জস্য। অনেকেই নিজের মুখের গড়ন অনুযায়ী টিপ নির্বাচন করতে পারেন না। ফলে পছন্দের টিপ পরেও মনের মতো সাজ পান না। টিপের আকার, কপালের প্রস্থ এবং মুখের গড়ন বুঝে বেছে নিলে সাজ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কোন মুখে কেমন টিপ পরলে ভালো লাগতে পারে।
- গোল মুখের জন্য: মুখ গোল হলে খুব বড় গোল টিপ এড়িয়ে ছোট আকারের গোল টিপ বেছে নিতে পারেন। চাইলে লম্বাটে টিপও পরতে পারেন। এতে মুখের গড়নের সঙ্গে সাজে ভারসাম্য আসবে।
- ডিম্বাকৃতি মুখের জন্য: এই ধরনের মুখে সাধারণত বিভিন্ন আকারের টিপ মানিয়ে যায়। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গোল টিপ বেছে নিতে পারেন। পোশাক ও সাজের ধরন অনুযায়ী অন্য নকশার টিপও পরা যেতে পারে।
- চৌকো মুখের জন্য: কপাল ও চোয়ালের প্রস্থ প্রায় সমান হলে গোল কিংবা ডিম্বাকৃতি টিপ বেছে নিতে পারেন। খুব বড় টিপের বদলে মাঝারি বা ছোট আকারের টিপ পরতে পারেন।
- চওড়া কপালের জন্য: কপাল চওড়া হলে মাঝারি আকারের গোল বা লম্বাটে টিপ পরতে পারেন। তবে মাথায় মাংটিকা কিংবা অন্য কোনও গয়না থাকলে তার নকশার সঙ্গে টিপের সামঞ্জস্য রাখবেন এতে দেখতে আরও বেশি ভালো লাগবে।
- ছোট মুখের জন্য: মুখের গড়ন ছোট হলে ছোট কিংবা মাঝারি আকারের টিপ বেছে নেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত বড় টিপ পরবেন না, এতে মুখের বদলে টিপের দিকেই নজর বেশি পড়বে।
- লম্বাটে মুখের জন্য: লম্বাটে মুখে গোল বা তুলনামূলক চওড়া টিপ পরতে পারেন। এতে মুখের গড়নের সঙ্গে সাজে ভারসাম্য আসবে।
- শুধু মুখের আকৃতি নয়, শাড়ির রং ও সাজের ধরনও টিপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, লাল শাড়ির সঙ্গে সবুজ টিপ, কালো শাড়ির সঙ্গে সোনালি টিপ কিংবা গোলাপি শাড়ির সঙ্গে নীল টিপ পরে কনট্রাস্ট তৈরি করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: পার্লারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বাড়িতেই ৫টি ধাপে করুন গ্লোয়িং মেকআপ
কীভাবে শুরু হল টিপ পরার প্রচলন?
টিপের ইতিহাস বহু পুরনো। সংস্কৃত ‘বিন্দু’ শব্দ থেকে ‘বিন্দি’ নামের উৎপত্তি, যার অর্থ বিন্দু বা ছোট্ট ফোঁটা। ভারতীয় উপমহাদেশে কপালের মাঝখানে চিহ্ন পরার এই রীতি ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দুই ভ্রুর মধ্যবর্তী স্থানকে আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে সিঁদুর বা কুমকুমের মতো উপকরণ দিয়ে টিপ পরা হত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রীতিতে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে আঠা দিয়ে লাগানো টিপ, বিভিন্ন রঙের টিপ, পাথর বসানো নকশাদার টিপসহ নানা ধরনের সাজের উপকরণ বাজারে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: পুজোর আগে ফিরে পান মুখের হারানো জেল্লা, ব্যবহার করুন এই ৩ ফেসপ্যাক
তাহলে বুঝতেই পারছেন, টিপ পরার ক্ষেত্রে শুধু পছন্দের নকশা বেছে নিলেই হবে না, নিজের মুখের গড়ন ও সাজের সঙ্গেও তার সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। তাই এবার থেকে টিপ পরলে দেখতে ভালো লাগছে না বলে মন খারাপ না করে, কোন আকারের টিপে আপনার মুখের সৌন্দর্য আরও ফুটে উঠছে, সেটা আগে বোঝার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ফ্যাশনের কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিলে আপনার সাজও হয়ে উঠবে সুন্দর ও আকর্ষণীয়।










