প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চোরবাগানের (Chorbagan Stampede Case) ঘটনাকে ঘিরে এখনও উদ্বিগ্ন পরিস্থিতি রাজ্যের অন্দরে। পুজোমণ্ডপে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু সকলের পুজোর আনন্দ নিমেষেই মাটি করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু তবুও প্রশাসনের তদন্ত নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছেন বিরোধীরা। এমতাবস্থায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রাজ্যের শাসকদল ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুধু তাই নয়, ওই মণ্ডপের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের যোগ এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়েও প্রশ্ন করলেন তিনি।
প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন অভিষেকের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেছিলেন। যেখানে তিনি বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেল। সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশু সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ এত বড় বিপর্যয়ের পরেও তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আয়োজকদের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থেকে গিয়েছে। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিজেপির জেলা সভাপতি তমাঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেবদীপ অধিকারীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে?”
আরও পড়ুন: “সরকারি হাসপাতালে কিছু খামতি আছে” চোরবাগান কাণ্ডে রেফার বিতর্ক নিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেছেন যে, “বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই কি কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান? রাজনৈতিক প্রভাব কি তদন্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? SIT এর কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি, তদন্ত হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত। কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেফতার করে এতগুলো নিরীহ মানুষের মৃত্যুর দায় এড়ানো যাবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রত্যেক স্তরের দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে হবে।”
ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কড়া বার্তা
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, চোরবাগান কাণ্ডে পুজো মণ্ডপের আয়োজক বিজয় ওঝা, তমাঘ্ন ঘোষ ও দেবদীপ অধিকারী এই ৩ জনের ভূমিকা তদন্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতার সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনও অভিযোগ থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। যাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও মনে রাখা উচিত, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, আর আইনের হাতও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে থেমে যায় না।”
আরও পড়ুন: ফেরাতে হবে শিক্ষকদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, মেডিক্যাল ভাতা!
নিজের পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “আজ তদন্তে গাফিলতি কিংবা প্রভাব খাটিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা হলে, আগামী দিনে সেই সিদ্ধান্তেরও জবাবদিহি করতে হবে ও জেলেও যেতে হবে। তাই আজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, নইলে আগামী দিনে নিজেরাই আইনের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কোনও ক্ষমতার দম্ভ, কোনও প্রভাবশালী পরিচয় যেন সত্যকে চাপা দিতে না পারে।”










