আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সমাজ যতই সভ্যতার পথে এগিয়ে যাক, গার্হস্থ্য হিংসার (Domestic Violence) মতো ঘটনা এখনও বহু মহিলার জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। তেমনই এক মর্মান্তিক কাহিনি সামনে এসেছে, গৃহবধূর নাম লতিকা শিকদার (Latika Sikdar)। সমাজকর্মী অতীন্দ্রর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে এই গৃহবধূর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের কথা। অভিযোগ, লতিকার স্বামী বারবার তাঁর ওপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছেন, এমনকি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন। বর্তমানে নিজের ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে লতিকার।
দীর্ঘদিনের অত্যাচারে অকেজো দুই হাত
লতিকার মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। ফলে অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকায় স্বামীর বাড়িতেই থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য না নিয়ে নিজের পরিশ্রমের উপার্জনে ছেলেকে বড় করার চেষ্টা করতেন তিনি। মানুষের বাড়িতে বাসন মাজা, কাপড় কাচা, কাঠ ভাঙা থেকে শুরু করে অন্যের জমিতে লাঙল টানা, এমন নানা কঠিন কাজ করেই সংসার ও ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতেন লতিকা।
কিন্তু একদিন স্বামীর নির্মম মারধরের শিকার হয়ে তাঁর দুই হাতই কার্যত অকেজো হয়ে যায়। বর্তমানে নিজের হাতে খাবার মেখে খাওয়ার ক্ষমতাও নেই তাঁর। যে হাত দিয়ে এত দিন পরিশ্রম করে ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই হাতই এখন তাঁর অসহায়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লতিকার অভিযোগ, তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িও তাঁদের পছন্দ করতেন না। নাতির প্রতিও তাঁরা কোনও দিন সেভাবে স্নেহ দেখাননি বলে দাবি তাঁর।
লতিকার কথায়, “আমরা খুব কষ্টে আছি, নিজের বাড়ি নেই, ঘর নেই। দিদির বাড়িতে পড়ে আছি। আমার ছেলেটা পড়াশোনা করতে পারে না। সেই সামর্থ্য নেই। আমিও কোনও কাজ করতে পারি না, কারণ আমার হাত দুটো অকেজো। কিন্তু আমি বাঁচতে চাই। ছেলেটাকে নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে চাই, ছেলেটাকে বড় করতে চাই, মানুষ করতে চাই।”
আরও পড়ুন: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাইয়ে খেয়েছেন” ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হতেই বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
তবে শুধু আর্থিক সংকট নয়, ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন লতিকা। স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর দাবি, এরপরও উপযুক্ত শাস্তি হয়নি এবং তিনি ন্যায়বিচার বা কোনও সাহায্য পাননি। লতিকার ছোট্ট ছেলে শিমুল শিকদারও মায়ের অসহায়তার কথা তুলে ধরেছে। তার কথায়, সে স্কুলে পড়লেও মায়ের এই অবস্থার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে বলে দাবি করে শিমুলও বিচার চেয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪ রাজ্যে ব্যালট পেপারে MLC নির্বাচনে কটা আসন পেল কংগ্রেস? ব্যাঙ্গ মোদীর
একদিকে শারীরিক অক্ষমতা, অন্যদিকে আর্থিক অনটন, সব মিলিয়ে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটছে মা ও ছেলের। তবে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে বড় মানুষ করার স্বপ্ন এখনও ছাড়েননি লতিকা। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে এখন মানুষের সাহায্য ও সহানুভূতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি ও তাঁর ছোট্ট শিমুল।










