ফেলবেন না পেঁয়াজের খোসা, এভাবে কাজে লাগালেই হবে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয়

Published:

onion

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই রোজকার রান্নায় পেঁয়াজ খুবই প্রয়োজনীয় একটি আনাজ। পেঁয়াজ কাটতে গেলেই একেবারে নাকের জলে চোখের জলে অবস্থা হয়। খোসা ছাড়ানোর পর প্রায় প্রত্যেকেই সেই খোসা (Onion Peels) চালান করেন ডাস্টবিনে। আপনি কি জানেন এই ফেলে দেওয়া খোসা দিয়ে বাড়িতেই অনায়াসে বানিয়ে ফেলতে পারেন নিত্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু জিনিস? চাইলে আপনিও এই একটি মাত্র উপাদান দিয়েই অনেকগুলো টাকার সাশ্রয় করতে পারেন। জেনে নিন, কী কী কাজে ব্যবহার করতে পারেন পেঁয়াজের খোসা।

১. গাছের পরিচর্যায় ব্যবহার করুন পেঁয়াজের খোসা

বাড়িতে গাছ থাকলে পেঁয়াজের খোসা ফেলে না দিয়ে জমিয়ে রাখতে পারেন। বেশ খানিকটা খোসা জমে গেলে, কয়েক মুঠো নিয়ে পরিষ্কার খোসা এক লিটার জলে ভিজিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর জল ছেঁকে গাছের মাটিতে অল্প অল্প করে দিতে পারেন। এটি একপ্রকার সারের কাজ করে এবং গাছকে পুষ্টি দেয়।

২. সাদা চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে

পেঁয়াজের খোসা ব্যবহার করে চুলে হালকা সোনালি বা বাদামি আভা আনার প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্ক হয়তো অনেকেই জানেন। এর জন্য প্রথমেই পরিষ্কার খোসা জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিতে হবে। তারপর সেটি চুলে ব্যবহার করতে হবে। তবে এই পদ্ধতিতে সাদা চুল স্থায়ীভাবে কালো হয়ে যাবে, এমনটা কিন্তু নয়। আর মাথায় লাগানোর আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার না করাই ভালো।

৩. স্যুপ ও তরকারিতে রং আনতে

যে জিনিসটা অপ্রয়োজনীয় হিসেবে আমরা ফেলেদিই, সেটাই রান্নায় ব্যবহার করব? শুনতে অবাক লাগলেও রান্নার সময় পেঁয়াজের পরিষ্কার খোসা অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। স্যুপ, স্টক বা স্টু তৈরি করার সময় অন্য উপকরণের সঙ্গে খোসা জলে ফুটিয়ে নিন। এতে রান্নার জলে সোনালি বা হালকা বাদামি রং আসতে পারে। রান্না শেষ হলে খোসাগুলি ভালোভাবে ছেঁকে ফেলে দিতে হবে। নোংরা, পচা বা ছত্রাক ধরা খোসা কোনওভাবেই ব্যবহার করবেন না।

৪. গাছের পোকা তাড়ানোর ঘরোয়া স্প্রে

পেঁয়াজের খোসা জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। এরপর এই জল গাছের পাতায় স্প্রে করতে পারেন। এতে গাছের পোকামাকড় অনেকটাই দূর হবে। তবে স্প্রে করার পর যদি কোনরকম অস্বাভাবিক কিছু নজরে আসে তাহলে সেই গাছের ক্ষেত্রে এই জল প্রয়োগ না করাই ভালো।

৫. পেঁয়াজের খোসা দিয়ে চা তৈরি

পরিষ্কার পেঁয়াজের খোসা জলে ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে পান করার পদ্ধতিও প্রচলিত। কেউ কেউ স্বাদের জন্য মধু বা লেবু মেশান। এই চা পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, সর্দি-কাশি, গলার ব্যথা ইত্যাদি থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়। তবে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হলে খোসা আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং পচা খোসা ভুল করেও ব্যবহার করবেন না।

৬. কাপড়ে প্রাকৃতিক রং করতে

পেঁয়াজের খোসা দিয়ে কাপড়ে প্রাকৃতিক রং তৈরি করা যায়। একটি পাত্রে খোসা ও জল নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ফুটিয়ে নিলেই জল রঙিন হয়ে যাবে। এরপর সেই জলে পরিষ্কার সুতির কাপড় বা উলের সুতো ভিজিয়ে রাখুন। রং কতটা ফুটে উঠবে সেটা নির্ভর করে কতটা সময় ভেজানো হচ্ছে এবং কাপড়ের ধরন কেমন, তার উপর। এই পদ্ধতি হস্তশিল্প বা বাড়িতে ছোটখাটো সৃজনশীল কাজের জন্য ব্যবহার করা যায়।

৭. জৈব সার বা কম্পোস্ট তৈরি করতে

পেঁয়াজের খোসা রান্নাঘরের অন্যান্য উদ্ভিজ্জ বর্জ্যের সঙ্গে কম্পোস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। শুকনো খোসা কুচি কুচি করে ছিঁড়ে শুকনো পাতা, সবজির উচ্ছিষ্ট এবং অন্যান্য উপযুক্ত জৈব বর্জ্যের সঙ্গে মিশিয়ে রাখুন। কিছুদিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে এগুলি পচে কম্পোস্টে পরিণত হবে। শুধু পেঁয়াজের খোসা দিয়ে সম্পূর্ণ সুষম সার তৈরি হয় না, তাই অন্যান্য উপাদান এর সঙ্গে মেশানো জরুরি।

আরও পড়ুন: সূর্যদেবের কৃপায় ভাগ্যরথ ছুটবে ৪ রাশির! আজকের রাশিফল, ১১ অক্টোবর

সব মিলিয়ে, পেঁয়াজের খোসা ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখতে পারেন। রান্নায় রং আনা, প্রাকৃতিক রং তৈরি কিংবা কম্পোস্ট তৈরির মতো কাজে এটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। দোকান থেকে কিনে আনার বদলে এই একটি জিনিস দিয়েই অর্থ সাশ্রয় সম্ভব।

google button