প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্ষাকাল (Monsoon) পড়তে না পড়তেই নানা রোগের সংক্রমন বেড়ে যায়। ভাইরাল জ্বর, সর্দি, কাশি তো আছেই, তার সঙ্গে চোখে (Eye) সংক্রমণের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এই সময় কনজাঙ্কটিভাইটিসের (Conjunctivitis) সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সেক্ষেত্রে বেশি চোখের যত্ন নিতে হয় এই সময়। কিন্তু অনেকেই জানেন না কী করণীয়। তাই আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।
কনজাঙ্কটিভাইটিস কী?
কনজাঙ্কটিভাইটিসকে দুটি নামে চেনে অনেকে, একটি হল গোলাপি চোখ এবং অপরটি হল জয় বাংলা। কোষের পাতলা পর্দা দিয়ে তৈরি হয় চোখের কনজাঙ্কটিভাইটিস। এটি চোখের পলকের অভ্যন্তরের স্তর ও চোখের সাদা অংশকে আবৃত করে রাখে। কনজাঙ্কটিভা ফুলে গেলে ছোট রক্তবাহিকা বা কোষ অধিক সক্রিয় হয়ে যায়। যার ফলে চোখে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। বর্ষাকালে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। যা পুরোপুরি কমে যেতে অন্তত ৩ সপ্তাহ সময় লেগে যায়।
কনজাঙ্কটিভাইটিসের লক্ষণ
কনজাঙ্কটিভাইটিস হলে হঠাৎ চোখ লাল হয়ে যাবে। চোখ দিয়ে জল পড়তেই থাকবে। আঠালো বা তরল ধরনের উপাদান চোখে সবসময় লেগে থাকবে এবং চোখে ব্যথা হবে। এই রোগ হলে আলো একদমই সহ্য করা যায় না এমনকি ব্যথাও বাড়তে পারে।
কী কী করণীয়?
- কনজাংটিভাইটিস হলে চোখে ঘন ঘন হাত দেওয়া একদমই ঠিক হবে না। এমনকি ওষুধ দেওয়ার সময়ও যেন হাত না যায়, সে দিকে লক্ষ রাখুন। দরকার পড়লে চোখে ড্রপ দেওয়ার পর হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ ওই হাত অন্য কোথাও স্পর্শ করলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- কনজাংটিভাইটিস হলে বেশি টিভি, ফোন না দেখাই ভাল। কারণ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের আলো চোখে আরও অস্বস্তি বাড়ায়। সেজন্য কনজাংটিভাইটিস হলে যত ক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকা যায়, ততই ভাল। ভুলেও এইসময় রোগীর জামাকাপড়, তোয়ালে, চশমা, বালিশ, বিছানার চাদর ব্যবহার করবেন না। কারণ এই রোগ ছোঁয়াচে।
আরও পড়ুন: মৌমাছি বা বোলতা কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে করুন এই কাজ, কমবে জ্বালা এবং ব্যথা
- কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে সময় নস্ট না করে শুরু থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও ড্রপ দিন নিয়মিত। তাহলে চোখ খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে। বেশি ফেলে রাখলে মুশকিলে পড়তে পারেন।
- যাঁরা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাঁদের চিকিৎসকের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত লেন্স ব্যবহার করা উচিত না। নইলে বাড়তে পারে আরও বিপদ। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারে সহজলভ্য স্টেরয়েড বা স্টেরয়েড-অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ কখনও ব্যবহার করা উচিত নয়।










