অনন্যা সরকার, কলকাতা: বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ির সুতোয় টান পড়লেই পুজোর মরশুম শুরুর বাজনা বেজে যায়। সামনেই দুর্গাপুজো। বাঙালি এসময় মেতে ওঠে উৎসব উদযাপনে। পুজোর অন্তত একটা দিন বরাদ্দ থাকে মজা, হুল্লোড় আর খানা-পিনার জন্য। নবমীর দিন বন্ধুদের সাথে পার্টি করেন অনেকেই। সেই আসরে ব্যবস্থা থাকে মদ্যপানেরও। হৈ হুল্লোড় করে ভোররাতে ঘুম, আর সাথে মাত্রা ছাড়া মদ্যপান কারণ হয় হ্যাংওভারের (Hangover), যা কাটাতে অনেকেরই সমস্যা হয়। কী করবেন এসময়? কী উপদেশ দিচ্ছেন ডাক্তাররা? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
কেন হয় হ্যাংওভার?
ডঃ চরণজিৎ মোহান্ত জানাচ্ছেন, মূলত তিনটি কারণে মদ্যপান করলে হ্যাংওভার হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হল ডিহাইড্রেশন। শরীরে অ্যালকোহল গেলে তা জলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হয়, যা হ্যাংওভারের জন্য দায়ী। অ্যালকোহল রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়, যা হ্যাংওভার তৈরি করে। এছাড়া মদ্যপান করলে শরীরে অ্যালকোহলের একটি বাই-প্রোডাক্ট তৈরি হয়, যাকে বলে অ্যাসিটালডিহাইড (Acetaldehyde)। এই যৌগটিও শরীরে হ্যাংওভার তৈরির মূলচক্রি।
কী করবেন হ্যাংওভার কাটাতে?
১. প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া হ্যাংওভার কাটানোর একটি বড় উপায়। শরীরের ডিহাইড্রেশন কমানোর জন্য জলের সাথে ওআরএস (ORS) মিশিয়ে কিংবা ডাবের জলও খেতে পারেন। এগুলি দ্রুত হ্যাংওভারের প্রভাব কমায়।
আরও পড়ুন: নতুন জামা পরার অবশ্যই নিন ধুয়ে, এই পাঁচ কারণে হতে পারে সমস্যা
২. হ্যাংওভার কাটাতে খেতে পারেন ডিমের তৈরি কোনও খাবার। ডিমে থাকা এল-সিস্টাইন (L-cysteine) নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে থাকা বিষাক্ত অ্যাসিটালডিহাইডকে নষ্ট করে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে হ্যাংওভার দ্রুত কমে।
৩. শরীরের শর্করার মাত্রা বাড়ানোর জন্য চকলেট বা পাকা কলার মতো সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতে পারেন, এতেও হ্যাংওভার দ্রুত কমে যায়। এই উপায়গুলির পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়াও দরকার।










