অনন্যা সরকার, হাওড়া: হাওড়ার গ্রামে ধরা পড়ল সুন্দরবনের সামুদ্রিক কুকুরমুখো সাপ (Dog-faced Water Snake)। সাপটিকে দেখা গেছে হাওড়ার শ্যামপুরের পলতাবেড়িয়া অঞ্চলে। এই কুকুরমুখো সাপ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এই মৃদু বিষধর সাপটি এক স্থানীয় বাসিন্দার মাছধরার মুগরিতে আটকে পড়েছিল। অদ্ভুতদর্শন সাপটিকে দেখতে এলাকার মানুষের ঢল নামে। পরে সাপ উদ্ধারকারী দল এসে সাপটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কিন্তু সুন্দরবনের সামুদ্রিক সাপ কীভাবে এল হাওড়ার গ্রামে, তাই নিয়ে অনেকের মনে জাগছে প্রশ্ন।
কুকুরমুখো সাপ উদ্ধার হাওড়ায়
স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত আদক হঠাৎ দেখেন তার মাছ ধরার মুগরিতে একটি সাপ আটকা পড়েছে। তবে সাপের মুখটি দেখে তিনি ও এলাকাবাসীরা অবাক হন। এরকম সাপ তারা ওই এলাকায় কখনও দেখেননি। খবর পেয়ে বন্যপ্রাণ উদ্ধারকারী অর্ণব মিদ্যা ও বন্যপ্রাণকর্মী অর্পণ দাস সেখানে পৌঁছান এবং মুগরির জাল কেটে নিরাপদে সেই সাপটিকে উদ্ধার করেন। তাঁদের দাবি, শ্যামপুরে এই প্রজাতির সাপ এই প্রথম উদ্ধার হল।
পরিবেশকর্মী অর্পণ দাসের কথায়, সাধারণত সুন্দরবনের নোনা জলাভূমিতেই এই ধরনের সাপ থাকে। তবে এটি সম্ভবত জোয়ারের স্রোতে ভেসে মিঠে জলে চলে এসেছে। অর্ণব মিদ্যা জানান, মুখের আকৃতির কারণে এটিকে কুকুরমুখো সাপ বা ডগ ফেসড ওয়াটার স্নেক বলা হয়। সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা, ম্যানগ্রোভ, খাঁড়ি অঞ্চল, কাদামাটি ও জলাভূমিতে এদের দেখা মেলে। তাই শ্যামপুরের মতো মিঠে জলের এলাকায় এই সাপের দেখা পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই এলাকাবাসীদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: হাওড়াগামী ট্রেনের কামরায় কালাচ সাপ! আতঙ্কে হুড়োহুড়ি যাত্রীদের, প্রশ্নের মুখে রেল
কুকুরমুখো সাপের প্রশস্ত মুখ, চোয়াল এবং নাসারন্ধ্র আকারে কিছুটা কুকুরের মতো। এর চোখ ও নাসারন্ধ্র মাথার একেবারে ওপরের দিকে থাকে,অনেকটা কুমিরের মতো। এর ফলে এটি শরীরের বাকি অংশ জলের নীচে ডুবিয়ে রেখে চোখ ও নাক জলের ওপর তুলে শ্বাস নিতে ও দেখতে পারে। এই সাপটি মৃদু বিষধর এবং এর বিষদাঁতগুলো মুখের পেছনের দিকে থাকে। তবে এর বিষ মানুষের জন্য মোটেও প্রাণঘাতী নয়।










