আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: নিজের ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়, তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ শৈভী জৈন (Shavy Jain)। মাত্র ১২ মাসের প্রচেষ্টায় ৩৫ কেজি ওজন কমিয়ে নিজের শরীরে বড়সড় পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তবে এই বদলে যাওয়ার গল্পটা শুধুই সাফল্যের নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রোজকার জীবনের একাধিক পরিবর্তন, এবং মানসিক লড়াই। নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরে শৈভী বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ফিটনেসের এই যাত্রা ততটা সহজ নয়।
এই কঠিন লড়াই নিয়ে কী বললেন শৈভী?
ঠিক কী কারণে তাঁর ওজন বেড়েছিল কিংবা কত বছর ধরে তিনি এই সমস্যায় ভুগছিলেন, সে বিষয়ে কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে শৈভী জানিয়েছেন, ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় একাধিক পরিবর্তন আনতে হয়েছে তাঁকে। শুধু খাবার কমানো বা জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করাই যথেষ্ট ছিল না, নিজের সময়, অভ্যাস এবং দৈনন্দিন রুটিনকেও নতুন করে সাজাতে হয়েছে। তাঁর মতে, ওজন কমানোর পিছনে যে পরিশ্রম থাকে, সেটা মানুষের চোখে পড়ে না।
শৈভীর অভিজ্ঞতায়, এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আর্থিক খরচ। ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ, প্রোটিন, সুগার-ফ্রি স্ন্যাকস এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাঁর। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা শৈভীর কাছে এই খরচ বহন করাও সহজ ছিল না। এর পাশাপাশি, খাবারের অভ্যাসে বড়সড় পরিবর্তন আনার পর কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ার মতো হজমের সমস্যাতেও ভুগতে হয়েছিল তাঁকে।
প্রতিদিন জিম করা, খাবার তৈরি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সামলাতে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ব্যয় হতো। ফলে কর্মব্যস্ত জীবনে এই রুটিন মেনে চলা যে কতটা কঠিন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ৩৫ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্যে পৌঁছতে গোটা এক বছর ধরে কাজ, ছুটি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে ফিটনেসকে সবার আগে রাখতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, একবার ওজন কমানোর পর তা আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও মানসিক চাপ তৈরি করত। সারাদিনের এত পরিশ্রমের পরেও নিজের পছন্দের খাবারটুকু খেতে পারতেন না শৈভী।
তবে শৈভীর উপলব্ধি, ওজন কমানো জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান নয়। ৩৫ কেজি ওজন ঝরানোর পরও জীবনের অন্যান্য সমস্যাগুলো কিন্তু থেকেই গেছে। তাই নিজেকে ভালোবাসতে গেলে ওজন কমানো বাধ্যতামূলক নয়। তার জন্য আরও অনেক উপায় আছে।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতির গোচরে পাঁচ রাশির কর্ম ও আর্থিক ক্ষেত্রে উন্নতি, খুলে যাবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার
প্রত্যেকের শরীর আলাদা, প্রত্যেকের জীবনযাত্রা ও আর্থিক সামর্থ্যও এক নয়। যদি কারও মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করে জিমে যাওয়া, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক রাখা কিংবা বিশেষ খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকে, তাতেও তাঁর নিজের শরীর নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবার, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম সব থেকে বেশি দরকারি। এর জন্য ব্যয়বহুল রুটিনই একমাত্র পথ নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, রোগা হলেই সুন্দর আর মোটা হলেই অসুন্দর, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার চেষ্টা অবশ্যই ভালো, কিন্তু নিজের চেহারাকে অন্যের মাপকাঠিতে বিচার করার প্রয়োজন নেই। আপনি যেমন, আপনার শরীর যেমন, আপনি তেমনটাই সুন্দর। একটি মানুষ যেমনই হোক না কেন তাঁর মধ্যে সম্মান আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সৌন্দর্য ধরা দিতে বাধ্য।










