পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ অবসরপ্রাপ্তরা, মিটবে সমস্যা?

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: এবার পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হলেন কর্মীরা। হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী তাদের উচ্চতর এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS Pension) পেনশন দাবির বিষয়ে স্পষ্টতার জন্য অপেক্ষা করছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে, এই দেরি হওয়ায় কারণে উচ্চতর পরিমাণ নিশ্চিত করার জন্য আইনি প্রতিকার চাওয়ার পাশাপাশি তাদের একটি সামান্য মাসিক পেনশন পেতে হচ্ছে । এরই মাঝয়ে ন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ পেনশনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনস (NCPA) এখন ১৯৯৫ সালের কর্মচারী পেনশন প্রকল্পের অধীনে উচ্চতর পেনশন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদে হস্তক্ষেপ চেয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন করেছে।

উচ্চতর পেনশনের দাবিতে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হলেন কর্মীরা

গত ২৩শে অক্টোবর তারিখের একটি স্মারকলিপিতে, সংস্থাটি রাষ্ট্রপতিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক এবং কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল সংস্থা (EPFO)-কে একটি বিতর্কিত সার্কুলার প্রত্যাহার করতে, অপ্রয়োজনীয় মামলা বন্ধ করতে এবং বিচারাধীন দাবিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।এনপিসিএ শাস্তিমূলক সুদ থেকেও অব্যাহতি চেয়েছে, যা তাদের মতে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে জমা হয়েছে। এনসিপিএ দাবি করে যে তারা সরকারি খাতের উদ্যোগ এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ১০ লক্ষ পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্ব করে।

আরও পড়ুন: সরকারি প্রাথমিক স্কুলে বসছে ওয়াটার পিউরিফায়ার, বিরাট উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

সমিতিটি তিনটি প্রধান দাবি পেশ করেছে। তারা চায়, ইপিএফও যেন উচ্চতর পেনশন যোগ্যতার বিষয়ে তাদের ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫-এর সার্কুলারটি প্রত্যাহার করে নেয়, বিচারাধীন মামলাগুলো পর্যালোচনা করে এবং প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে আরোপিত সুদজনিত জরিমানা মকুব করে। এছাড়াও, যোগ্য দাবিগুলো নিষ্পত্তির জন্য একটি সময়বদ্ধ পদ্ধতির আহ্বান জানিয়েছে সমিতিটি। এগুলো পেনশনভোগীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে করা দাবি। এই চিঠিটি নিজে থেকে কোনো নিয়ম পরিবর্তন করে না বা বিচারাধীন আবেদনগুলোর অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেয় না।

বড় অভিযোগ NCPA -র

অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলির পিএফ ট্রাস্টে পুরোনো বেতনসীমার নিয়মের কারণে উচ্চতর ইপিএস পেনশনের আবেদন আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপিএ (NCPA)। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সার্কুলার প্রত্যাহার এবং পেনশনের মুলতুবি আবেদনগুলি বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি। নিজেদের দাবির সমর্থনে এনসিপিএ ২০১৬ সালের আর.সি. গুপ্তা মামলা, ২০২২ সালের সুপ্রিম কোর্টের ইপিএফও বনাম সুনীল কুমার বি. মামলার রায় এবং ৯ জুলাই ২০২৬-এর মাদ্রাজ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, পিএফ ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ নিয়মের ভিত্তিতে কর্মীদের আইনসিদ্ধ পেনশন অধিকার সীমিত করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: সস্তার নেশায় বাজারে নকল সিগারেটের রমরমা! কোচবিহারে বাজেয়াপ্ত একাধিক প্যাকেট

এসএআইএল, এইচএএল, বিএইচইএল, আইওসিএল, এইচএমটি, বিইএল ও আইটিআই-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কর্মরত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে উচ্চতর পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে এনসিপিএ। সংস্থাটি সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তুলেছে। তবে, এগুলি সংগঠনটির দাবি; চিঠি জমা দেওয়ার ফলে সার্কুলার প্রত্যাহার বা সমস্ত মুলতুবি আবেদন অনুমোদনের কোনও স্বয়ংক্রিয় সরকারি নির্দেশ জারি হয় না। প্রতিটি আবেদনের সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নিয়ম, নথি ও আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

google button