জঙ্গলমহলের ‘ডুয়ার্স’, পুজোয় ঘুরে আসুন পাহাড়-বনে মোড়া এই জায়গা থেকে

Published:

Amlasole

সহেলি মিত্র, কলকাতা: দিঘা, পুরী, দার্জিলিং-এর গন্ডি পেরিয়ে অনেকেই আছেন যারা অফবিট জায়গায় ঘুরতে পছন্দ করেন। আপনিও কি এই পুজোয় বা শীতকালে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কোনও অফবিট জায়গার খোঁজ করছেন? কিন্তু কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে ঘুরে আসতে পারেন জঙ্গলমহলের ‘আমলাশোল’ (Amlasole) থেকে। অফবিট ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য ঝাড়গ্রামের আমলাশোল। যা জঙ্গলমহলের ডুয়ার্স নামেও পরিচিত। জঙ্গল, পাহাড়, ঝরনা, লেক আর নিরিবিলি প্রকৃতির টানে এখানে একসঙ্গে মিলবে নানা অভিজ্ঞতা।

দু’দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন অফবিট ‘আমলাশোল’

আমলাশোলের কেন্দগোড়া থেকে কাঁকড়াঝোড় অতিথি নিবাস, কাঁকড়াঝোড় নদী, ভবানী থান, শিবমন্দির ও জামবাঁধ জলাধার ঘুরে দেখা যায়। কাছেই রয়েছে ঢাঙ্গি কুসুম ঝরনা ও কেপটি লেক। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য ভুলাভেদা জঙ্গলের পথ খাঁন্দারানি লেক, গাড়রাসিনি আশ্রম, তালবেড়িয়া জলাধার, বুরুডি ড্যাম, ধারাগিরি, ময়ূর ঝরনা ও বকডুবা জঙ্গল সাফারিও বেশ আকর্ষণীয়। লাকাইসিনি পাহাড়ের ওয়াচ টাওয়ার থেকে উপভোগ করা যায় দিগন্তজোড়া সবুজের সৌন্দর্য।

আরও পড়ুনঃ যাত্রী নিরাপত্তায় নতুন মাইলফলক অর্জন রেলের

এর পাশাপাশি ঘাটশিলার পথে আমলাশোল থেকে ৫–৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বুরুডি ড্যাম। সেখান থেকে আরও ৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়-জঙ্গলের মাঝে ধারাগিরি। ফেরার পথে ভুমরু গুহা ও দুয়ারসিনি ঘুরে নিতে পারেন। সব মিলিয়ে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা। এছাড়া শাল-পিয়ালের জঙ্গলের মধ্যে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় ময়ূর ঝরনা—নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে এটি এক অপূর্ব ঠিকানা।

কীভাবে যাবেন?

ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার, আর ঘাটশিলা স্টেশন থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার। একটি গাড়ি ভাড়া করে অনায়াসেই আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারবেন। লোধাশুলি মোড় থেকে ঝাড়গ্রাম হয়ে এই বেলপাহাড়ির উপর দিয়েই আমলাশোল গ্রামের অন্দরে আসা যায়। মোড়ের মাথা থেকে দুই পথের গন্তব্য একটাই। বাঁ হাতে ওদলচুয়ার মোড় থেকে কাঁকড়াঝোড়ের পথে যেতে না চাইলে সোজাসুজি বাঁশপাহাড়ি ও চাকাডোবা হয়েও চলে আসা যায়। এই আমলাশোলে এলে সন্ধ্যায় শালপাতায় রান্না করা মাংস, মুন্ডারী গান-নাচ এবং ক্যাম্প ফায়ার কিন্তু কোনওভাবে মিস করা যাবে না।

google button