সহেলি মিত্র, কলকাতা: ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে পাহাড়, নদী আর জঙ্গলের মাঝে কয়েকটা দিন কাটাবেন বলে ভাবছেন? তাহলে এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন সাকাম ফরেস্ট (Sakam Forest)। ডুয়ার্সের বুকে লুকিয়ে থাকা এত সুন্দর জায়গা আপনি আগে কখনও দেখেছেন কিনা সন্দেহ। ডুয়ার্সের অফবিট (Offbeat Dooars) ঠিকানা হল সাকাম।
ঘুরে আসুন সাকাম ফরেস্ট
ডুয়ার্স বলতেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে জলদাপাড়া, গরুমারা, লাটাগুড়ি কিংবা মূর্তির মতো পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ছবি। তবে চেনা পর্যটনস্থলের ভিড় এড়িয়ে যদি প্রকৃতির কাছাকাছি নিরিবিলিতে কয়েকটা মুহূর্ত কাটাতে চান, তা হলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে গরুবাথানের সাকাম ফরেস্ট। পাহাড়, জঙ্গল, নদী আর ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই জায়গা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক সুন্দর অফবিট ঠিকানা। খুব বেশি আয়োজন না করেও এখানে কাটিয়ে আসা যায় একদিনের ছোট্ট সফর।
জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলার সীমান্তঘেঁষা গরুবাথান অঞ্চলের এই বনাঞ্চলে পৌঁছলেই বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ। শহরের কোলাহল, যানবাহনের শব্দ আর ব্যস্ত জীবনের চাপ পেরিয়ে এখানে পাওয়া যায় পাহাড়ি হাওয়া, ঘন সবুজের সমারোহ এবং নাম না জানা পাখির ডাক। প্রকৃতির এমন শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটালেই মন যেন অনেকটা হালকা হয়ে যায়। সাকাম যাওয়ার পথে সামসিং পেরিয়ে চোখে পড়বে ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ সাকাম সুন্দর বস্তি। পাহাড়ের ঢালে সবুজের মাঝে সাজানো এই গ্রামের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে।
কী কী দেখবেন?
সাকামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নেওড়া নদী। নেওড়া ব্রিজের দু’পাশে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে পাথুরে নদী। স্বচ্ছ জলের স্রোত, নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা পাথর এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ প্রকৃতির শব্দ শোনা কিংবা পাহাড়ি পরিবেশে নিরিবিলিতে সময় কাটানো—দুটোই হতে পারে এই সফরের বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির। প্রকৃতির মাঝে বসে সময় কাটাতে ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের জন্য নেওড়া নদীর আশপাশ বেশ উপভোগ্য হতে পারে। তবে জায়গাটিকে পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট কিংবা অন্য কোনও আবর্জনা নদী ও জঙ্গলে ফেলে আসবেন না।
নেওড়া ব্রিজ থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সাকাম বাঁধ। পাহাড়ি জলধারাকে কাজে লাগিয়ে দূরের চিলৌনি চা-বাগান অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে জল পৌঁছনোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। প্রকৃতির মাঝে মানুষের তৈরি এই জলব্যবস্থা সাকামের ভ্রমণে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
সাকাম যাওয়ার জন্য শিলিগুড়ি থেকে মালবাজার বা সামসিং হয়ে গরুবাথানের দিকে যেতে পারেন। গরুবাথান থেকে সাকাম ফরেস্ট ও বাঁধের দূরত্ব আনুমানিক ৭–৮ কিলোমিটার। রেলপথে এলে নিউ জলপাইগুড়ি, চালসা অথবা নিউ মাল জংশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে গরুবাথানের দিকে যাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।










