বন্দুক ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম! দশমের পরীক্ষা পাশ করলেন তিন প্রাক্তন মাওবাদী

Published:

Former Maoists Leave guns Behind to Pass Class 10

অনন্যা সরকার, ছত্তিশগড়: চরম দারিদ্র্য, প্রতিকূল পরিস্থিতি ও মাথায় পরিবারের দায়ভার –  এই তিন কারণ একসময় ছত্তিশগড়ের বস্তার বিভাগের তিনটি মানুষকে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দিতে বাধ্য করেছিল। হাতে বন্দুক নিয়ে ঘরবাড়ি, আপনজনদের ছেড়ে বহু দূরে নির্জন প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো সেই মানুষগুলিই (Former Maoists) আজ কলম হাতে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। সম্প্রতি দশম শ্রেণির পরীক্ষায় (Class 10 Exams) উত্তীর্ণ হয়ে তাঁরা উন্নত কর্মজীবন ও সমাজে সম্মান পাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছেন। আসুন তাঁদের এই কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।

কলমই এখন এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার 

জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসা গীতা নরোতে (৩৬), ওরফে ‘ডক্টর চম্পা’, সন্তোষ আঁচল, ওরফে সান্নু (৩১), এবং রামধর কাশ্যপ (৩৪) – একসাথেই দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পাস করেছেন। 

কাঙ্কের জেলার গুন্ডুল গ্রামের বাসিন্দা সান্নু দ্বিতীয় শ্রেণির পরে আর পড়াশোনা করেননি। তাঁর এলাকায় শিক্ষিকই আসতেন না ঠিকমতো। এর পাশাপাশি চার ভাইয়ের দায়িত্বও তাঁর মাথার ওপরও ছিল। ২০০৮ সালে পরিস্থিতির চাপে তিনি মাওবাদী সংগঠনে যোগ দেন। সংগঠনের সাংস্কৃতিক শাখা ‘চেতনা নাট্য মঞ্চ’ তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল। গান, নাচ ও বক্তৃতার প্রতি আগ্রহী সান্নু সংগঠনেই আবার পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে তিনি তরুণ সদস্যদের প্রাথমিক গণিত ও হিন্দিও পড়াতেন। এখন সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এসে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এবং তার পাশাপাশি ব্যবসা  করার স্বপ্ন দেখছেন।

আরও পড়ুন: হাবড়ার পুনরাবৃত্তি অসমে! মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তর কাছে আইফোন চেয়ে বসলেন যুবক, ভাইরাল ভিডিও

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলির গুরেকাসা গ্রামের গীতা বাবার হত্যার পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছেড়ে দেন। মাওবাদী সন্দেহে একবার গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দুই বছর জেলে থাকার পর পুনরায় গ্রেপ্তারের ভয়ে তিনি সংগঠনেই যোগ দেন। মেডিকেল টিমে কাজ করার তাঁর নাম হয় ‘ডক্টর চম্পা’। আবার, কোন্ডাগাঁওয়ের কোটমেটা গ্রামের রামধর ইন্দ্রবতী নদীর ওপর বোধঘাট বাঁধ প্রকল্পে গ্রাম ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার কথা শুনে আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি চলতি বছরের মার্চে আত্মসমর্পণ করেন।

বর্তমানে তিনজনই জগদলপুরের পুলিশ-পরিচালিত ‘ত্রিবেণী কমপ্লেক্সে’ থাকছেন। বস্তারের পুলিশ সুপার শলভ কুমার সিনহা জানান, আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় তাঁদের পড়াশোনাতেও সাহায্য করা হয়। শিক্ষা তাঁদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসতে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে সাহায্য করবে বলেও তিনি জানান।

google button