ভারতীয় পাসপোর্টের রং ভিন্ন রকমের হয় কেন? জানুন বিস্তারিত

Published:

Indian Passport

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাইরের রাজ্য বা বিদেশে ঘুরতে যেতে গেলে সর্বপ্রথম যে নথির দরকার হয় সেটি হল পাসপোর্ট (Passport)। কারণ এটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য একটি মৌলিক পরিচয়পত্র। কিন্তু অনেকেই এমন আছেন যারা পাসপোর্ট সম্পর্কিত অনেক তথ্যই জানেন না। যার মধ্যে অন্যতম হল রং। ভারতে মূলত তিন ধরনের পাসপোর্ট (Indian Passport) হয়ে থাকে, সেগুলি হল নীল, সাদা এবং লাল। আর এই প্রতিটি রং আলাদা তথ্য বহন করে, চলুন কোন রংয়ের পাসপোর্ট কিসের জন্য ব্যবহার করা হয় জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

নীল পাসপোর্ট

ভারতের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নীল রঙের পাসপোর্ট। কোটি কোটি ভারতীযবাসী মূলত এই পাসপোর্ট বহন করেন, এছাড়াও এখন এটি ই-পাসপোর্ট হিসেবে পাওয়া যায়। ব্যবসায়িক কাজ, ভ্রমণ, শিক্ষা, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার জন্য এই পাসপোর্ট ব্যবহার হয়। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে তবে যে সকল ব্যবহারকারী ১৮ বছরের কম তাদের ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। এই রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হলে পরিচয়পত্র, ঠিকানা আর নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পেশ করতে হয়।

লাল পাসপোর্ট

লাল পাসপোর্টকে টাইপ ডি পাসপোর্ট বলা হয়ে থাকে যা কিনা ভারতের আমলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে অর্থাৎ উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, বা ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী এমন কাউকে এই পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে থাকে। লাল পাসপোর্টও ই-পাসপোর্ট ফরম্যাটে ইস্যু হয়, যা নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের কর্মীদের জন্য এই পাসপোর্ট সংরক্ষিত থাকে। এতে বেশিরভাগ সময়েই ভিসা ছাড়াই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধে দেওয়া হয়। আর বিমানবন্দরেও এই রেড পাসপোর্টধারকদের সম্মান এবং গুরুত্ব দেওয়া হয় সবথেকে বেশি।

আরও পড়ুন: জানেন কেন চোখের মণির রং সকলের এক হয় না? রইল জরুরি তথ্য

সাদা পাসপোর্ট

সাদা পাসপোর্ট কিন্তু আবার নীল পাসপোর্ট এর মত সর্বসাধারণের জন্য নয়, এটি কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের, সিভিল সার্ভেন্টদের জন্য নির্ধারিত, যারা অফিসিয়াল কাজে বিদেশ ভ্রমণ করেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি কাজের মেয়াদ পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই পাসপোর্টের বৈধতা থাকে। তবে সাদা পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক বেশি কঠোর। আবেদনকারীদের সরকারি আইডি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত পদের তথ্য, অফিসিয়াল ফরওয়ার্ডিং লেটার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদন জমা দিতে হয়।

এছাড়াও ব্যবহার করা হয় কমলা পাসপোর্ট। সাধারণত এতে সেই ব্যক্তিরা পড়ে যাঁরা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত মান পূর্ণ করেননি বা যারা এমন দেশগুলোতে কাজ করতে যাচ্ছেন যেখানে অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন চেক প্রয়োজন। এছাড়াও হলুদ রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত তিব্বতি শরণার্থী বা নির্দিষ্ট রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য পরিচয়পত্র হিসেবে দেওয়া হয়