সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: টিসিএস নাসিকে (TCS Nashik) যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তরের মামলায় অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী নিদা খান (Nida Khan) দীর্ঘ ২৫ দিন পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন। সূত্রের খবর, মুম্বাইয়ের ছত্রপতি সম্ভাজি নগর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণ থেকে শুরু করে যৌন নিপীড়ন এবং ধর্মান্তর সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গ্রেফতার হলেন নিদা খান
জানিয়ে রাখি, গত মাসে নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের সঙ্গে যুক্ত বিপিও ইউনিটকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। সেখানে নাকি কিছু কর্মচারীকে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন এবং ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে অভিযুক্ত হিসেবে নিদা খানের নাম উঠে আসে। জানা যায়, সে কর্মীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করত এবং ধর্ষণ ও নিপীড়ন মামলায় অভিযুক্তদের সাহায্য করত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি ভুক্তভোগীদের জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করাতে চেষ্টা করছিল। এমনকি অভিযোগ করলে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল।
তবে অভিযোগ যাওয়ার পর আগাম জামিনের জন্য নাসিকের একটি আদালতের দারস্থ হয় তাঁর আইনজীবী। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতেই সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালতের যুক্তি, যেহেতু তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণ আর সাক্ষীর জবানবন্দী হয়েছে, তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন। সেই সূত্রে নাসিক পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, নিদা খানের আইনজীবী এর আগে আদালতকে জানিয়েছিল যে, তিনি নাকি গর্ভবতী এবং সুরক্ষার জন্য মুম্বাইতেই থাকছেন। তবে শেষ রক্ষা হল না। অবশেষে ছত্রপতি সম্ভাজি নগর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
না বললেই নয়, বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী নারীরা এই নির্যাতনে ভুক্তভোগী। তাঁদের অভিযোগ, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, অশ্লীল মন্তব্য, পিছু ধাওয়া, বিয়ের জন্য জোর করা, যৌন শোষণ, এমনকি তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সন্তান ধারণেও হস্তক্ষেপ করত এই নিদা খান। এমনকি কিছু কিছু হিন্দু মহিলাকে নামাজ পড়তে চাপ দেওয়া হয়েছিল। আর হিজাব এবং বোরখা পরতে উৎসাহিত করা হত। পাশাপাশি আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রের ভিতর হিন্দু দেব-দেবীকে অপমান করা হয়েছিল। আর হিন্দুদের ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল, যার মূল কালপ্রিট নিদা খান।
আরও পড়ুন: গরমে বিদ্যুতের বিল হবে অর্ধেক, মাথায় রাখুন এই জিনিসগুলি
পুলিশ সূত্রে খবর, দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কোরেশি, শফি শেখসহ সহ বেশ কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্তত নয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আর এখনও পর্যন্ত এই মামলায় বিপিও ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারী এবং কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত নিদা খান এতদিন আত্মগোপন করেছিল। অবশেষে তাঁকেও গ্রেফতার করা হল।










