২টি এসি চালিয়েও বিদ্যুতের বিল শূন্য! মুশকিল আসান পিএম সূর্যঘর যোজনা, দেখুন হিসাব

Published:

PM Surya Ghar Yojana

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গরমের সময় এসি, ফ্রিজ, ফ্যান ছাড়া টেকাই দুষ্কর। তবে দেদার ব্যবহার করার ফলে মাস শেষে যখন বিদ্যুতের বিল আসে তখন চিন্তার ভাঁজ পড়ে মধ্যবিত্তদের কপালে। সেই চিন্তা দূর করার জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে চালু করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar Yojana), যেখানে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মেলে, এবং সোলার প্যানেল বসানোর জন্য দেওয়া হয় সরকারি ভর্তুকি। ইতিমধ্যেই ৪২.৮৬ লক্ষ্যের বেশি পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হয়েছে, এবং তা ১ কোটিতে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।

কী সুবিধা পাওয়া যায় পিএম সূর্যঘর যোজনায়?

বলে রাখি, পিএম সূর্যঘর যোজনায় সোলার সিস্টেম বসানোর জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হয়। যার মধ্যে ৩ কিলোওয়াট সিস্টেমের জন্য খরচ হয় প্রায় ১.৬০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে সরকার দেয় ৬০ শতাংশ ভর্তুকি। তবে ভর্তুকির টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হয়। আর গোটা প্রক্রিয়া ৪৫ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। তবে আপনার বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী আপনি সোলার প্যানেল ইনস্টল করতে পারবেন, এবং সেই অনুযায়ী দেওয়া হবে সরকারি সুবিধা।

কীভাবে আবেদন করবেন?

এই স্কিমে সম্পূর্ণ অনলাইন বা ডিজিটাল ভাবেই আবেদন করতে হয়। তার জন্য প্রথমে পিএম সূর্যঘর যোজনার পোর্টালে যেতে হবে। তারপর সেখানে আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন করতে হবে। তবে সেখানে আপনি রেটিং দেখে পছন্দের বিক্রেতা বেছে নিতে পারবেন। সরবরাহকারী নির্বাচন করার পর সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। তারপর ডিসকম কর্মকর্তারা প্রতি সপ্তাহে একবার পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন সম্পন্ন হলেই ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

দু’টি এসি চালিয়েও বিদ্যুতের বিল শূন্য!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিল্লির এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “আমরা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সোলার প্যানেল লাগিয়েছি। আমাদের বাড়িতে পাঁচটি এসি রয়েছে। কিন্তু যেহেতু আমরা দু’জন একটা ঘরে থাকি, তাই হিটার এবং এসি একটা করে ব্যবহার করা হয়। আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করি, তার ১০০% বিপণনকারী সংস্থা ব্যবহার করে না। এবং এর চূড়ান্ত সুফল আমরা বছরের শেষে দেখতে পাই। কিন্তু গত ২-৩ মাস ধরে আমাদের বিদ্যুৎ বিল শূন্য ছিল। আমরা প্রতি ইউনিটে মোটামুটি ৩ টাকা লাভ করেছি, যেখানে বিতরণকারী সংস্থা আমাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৮ টাকা করে চার্জ নিতো। সব মিলিয়ে আমরা ১৫ থেকে ২০% সরাসরি সুবিধা পাচ্ছি।

আরও পড়ুন: এবার ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করলে আরও মোটা জরিমানা, নতুন নিয়ম রেলের

সরকারি সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি দ্রুত গতিতে সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিধি বিস্তার করছে। শুধুমাত্র গত মাসেই ৩ লক্ষের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে এই প্রকল্পের সুবিধা, এবং এখন প্রতি ৭ থেকে ৮ দিনে ১ লক্ষ নতুন মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন।