অনন্যা সরকার, কলকাতা: যেকোনো ব্যবসা শুরু করতে হলে ইচ্ছার সাথে সাথে আবেগেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রিভা সুদ কাহিনীটাও (Success Story of Reeva Sood) ঠিক তেমনই। ২০১২ সালে রিভা সুদের জীবনে হঠাৎই বিপর্যয় নেমে আসে। তাঁর স্বামীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। এর কিছুদিন পর রিভা হিমাচল প্রদেশে তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরে এসে ৭০ একর অনুর্বর জমিকে কঠিন পরিশ্রমের সাথে ধীরে ধীরে এক সবুজে ভরা ফার্মে রূপান্তরিত করেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ (Organic Farming) শুরু করেন। তাঁর এই ফার্ম ৩০০ জন গ্রামীণ নারীকে স্বাবলম্বীও করেছে। বর্তমানে ব্যবসা থেকে রিভা বছরে ১ কোটি টাকা আয় করছেন।
অসুস্থ স্বামীর কথা ভেবে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ শুরু
২০১২ সালে রিভা সুদের স্বামী রাজীব সুদের কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে। এই খবর তাঁদের জীবনে এক বিশাল বড় ধাক্কা হয়ে এসেছিল। রিভা জানান, রোগ ধরা পড়ার পর থেকেই তিনি তাঁর স্বামীর অসুস্থতার মূল কারণ বোঝার চেষ্টা করেন। পেশায় ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও রাজীব সুদের এমনটা কেন হল? কী ভুল ছিল তাঁদের – তারই উত্তর খুঁজতে থাকেন রিভা। উত্তরটা পান স্বামীর কাছ থেকেই। তিনি বলেন তাঁরা যে খাবার খান, তার জন্যই এমনটা হয়েছে। অর্থাৎ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে চাষ করা শাকসবজি ও ফলমূলই সম্ভবত তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ। এখান থেকেই রিভার মাথায় রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ শুরু করার ভাবনাটি আসে।
রিভা সুদের বাড়ি হিমাচল প্রদেশে হলেও, তিনি পড়াশোনা ও কাজের জন্য দিল্লিতেই থাকতেন। স্বামীর ক্যান্সারের কথা জানার পর, তিনি হিমাচল প্রদেশের উনা জেলায় অবস্থিত তাঁর গ্রামে ফিরে এসে একটি সুস্থ জীবনযাপন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে তাঁর অনুর্বর জমিকে উর্বর করার সিদ্ধান্ত নেন। এই জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা শুরু করেন।
আরও পড়ুন: খামারে কাজ করেন মা, ছেড়ে গিয়েছেন বাবা! NEET-এ অভাবনীয় সাফল্য বীরভূমের যুবকের
এরপর ২০১৭ সালে রিভা বড় পদক্ষেপ নিয়ে গ্রামের ৫ একর অনুর্বর জমিতে ২,০০০ ড্রাগন ফলের গাছ লাগান। ফলনের জন্য তিনি ভার্মিকম্পোস্টিং-এর মতো স্থানীয় পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। এর পাশাপাশি খোল এবং গোবর ও গোমূত্র থেকে তৈরি তরল সার, জীবামৃতও ব্যবহার করেন রিভা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি জমিকে শুধু উর্বরই করেননি, সবুজে ভরিয়ে দেন। কয়েক বছরের মধ্যেই রিভা ৭০ একর জমিতে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ফার্মে ৩০,০০০টি গাছ রয়েছে।
রিভা নিজেকে শুধু কৃষিকাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি ড্রাগন ফলের প্রক্রিয়াকরণ করে বিক্রি করারও সিদ্ধান্ত নেন। এতে তাঁর উপার্জন অনেকটাই বাড়ে। তিনি স্থানীয় বাজারে ২০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন ফল বিক্রি করতেন। এরপর তিনি প্রাকৃতিকভাবে নিষ্কাশিত ফলের রসও বিক্রি করতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি ছেড়ে চাষ, বছরে ৫০ লক্ষ আয় স্যুট ও বুট পরা কৃষক বিপিনের
তিনি শুধু নিজের ফার্মে উৎপাদিত ফলই নয়, তার পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড এবং দিল্লির মতো রাজ্যগুলোর ৩০০ জন গ্রামীণ মহিলার কাছ থেকে ফল কেনা শুরু করেন। ‘হিমটুহাম’ (Him2Hum) নামে একটি কৃষক উৎপাদক সংগঠনও (FPO) তৈরি করেন। এর মাধ্যমে এই মহিলারা রিভার সাথে মিলে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি অশ্বগন্ধা ও মরিঙ্গার মতো ভেষজ উদ্ভিদের চাষ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রি করা শুরু করে। বর্তমানে রিভার ব্যবসার বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকা।










