অনন্যা সরকার, হুগলি: কথায় বলে, লক্ষ্যে কেবল তারাই পৌঁছাতে পারে, যাদের মনে থাকে হার না মানার জেদ। হুগলির বাসিন্দা শ্বেতা আগরওয়াল এই কথাটাই সত্যি প্রমাণ করে দিয়েছেন (UPSC Success Story of IAS Sweta Agarwal)। এক সাধারণ মুদি দোকানদারের মেয়ে শ্বেতা বড় হয়ে উঠেছেন রক্ষণশীল পরিবেশে, যেখানে মেয়েদের শিক্ষার চেয়ে ঘরকন্না এবং বিয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হত। কিন্তু নিজের কঠোর পরিশ্রম, সংকল্প এবং নিষ্ঠার জোরে শ্বেতা শুধু সমাজের বিদ্রূপকেই যোগ্য জবাব দেননি, তার সাথে দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি-তে তিনবার উত্তীর্ণ হয়ে এক অনন্য নজির গড়েছেন।
আত্মীয়স্বজনদের কটাক্ষ শুনেও স্বপ্নের পথে উড়ান
শ্বেতার আগরওয়ালের পরিবারে মেয়েদের পড়াশোনাকে কোনোদিনই অগ্রাধিকার দেওয়া হত না। তবে সামাজিক চাপ সত্ত্বেও, তার বাবা-মা মেয়ের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং তাকে ভালো ইংরেজি-মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করান। স্কুলজীবন শেষ করার পর, শ্বেতা কলকাতার নামকরা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনিই ছিলেন তার পরিবারের স্নাতক পাস করা প্রথম মেয়ে।
স্নাতক পড়ার সময় থেকেই আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে বিদ্রূপ করতে শুরু করে। তারা বলতেন, “লেখাপড়া করে কী করবে? শেষ পর্যন্ত তো সেই ঘরকন্নাই করতে হবে।” এই অপমানগুলো শ্বেতার মনোবল ভেঙে দেওয়ার বদলে, তার মধ্যে কিছু করে দেখানোর জেদ আরও বাড়িয়ে তোলে। তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় দিনরাত পরিশ্রম করতেন। শ্বেতার আগরওয়ালের এই সাফল্যের পথচলা কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০১৩ সালে প্রথম চেষ্টায় শ্বেতা সর্বভারতীয় স্তরে ৪৯৭ র্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করে ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (IRS)-এর জন্য নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন: প্রথম চেষ্টাতেই UPSC ক্র্যাক, মুর্শিদাবাদের মেয়ে পূরণ করলেন কৃষক বাবার স্বপ্ন
তবে এখানেই থেমে যাননি তিনি। তার স্বপ্ন ছিল ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (IAS) জয়েন করা। তাই আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। দ্বিতীয় চেষ্টায় ১৪১ র্যাঙ্কের সাথে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-এর জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এবারও স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। তবে হাল ছাড়েননি তিনি, ২০১৬ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে শীর্ষস্থান ও সর্বভারতীয় স্তরে ১৯ র্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি। শ্বেতার এই সাফল্যের গল্প সারা দেশের লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা, যারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন।










