NEET ক্র্যাক করেও ছেড়ে দেন ডাক্তারি, UPSC ক্লিয়ার করে আজ IAS যশভী

Published:

IAS Yashvi Yadav

অনন্যা সরকার, দিল্লি: কথায় বলে কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না, অর্থাৎ যারা স্বপ্ন পূরণের জন্য ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়, তারাই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। যশভী জৈনের গল্পও অনেকটা এরকমই (UPSC Success Story)। নিট (NEET) পাশ করে বিডিএস (BDS) কোর্স শেষ করার পর তিনি একজন দন্তচিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও, আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন তাকে নিয়ে গেল অন্য পথে। দিনের বেলা কাজ করতেন, আর রাতে ইউপিএসসি (UPSC)-এর প্রস্তুতি নিতেন। ডেন্টিস্টের কাজ ছেড়ে, যশভী জৈন এখন একজন সফল আইএএস অফিসার। চলুন তার এই সাফল্যের কাহিনীটি (Success Story of IAS Yashvi Jain) জেনে নেওয়া যাক।

চিকিৎসা ক্ষেত্র থেকে সিভিল সার্ভিসের যাত্রা 

দিল্লির গ্রেটার কৈলাশের বাসিন্দা যশভী জৈন একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে, তিনি দ্বাদশ শ্রেণির পর নিট (NEET) পরীক্ষা দিয়ে ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি (BDS) নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর শুরু হয় একজন দন্তচিকিৎসক হিসেবে তার চিকিৎসা জীবন, কিন্তু এক পর্যায়ে এসে তিনি ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিডিএস শেষ করার পর ইন্টার্নশিপ করার সময়েই তিনি সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। দিনের বেলায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতেন, আর রাতে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বইপত্র নিয়ে বসতেন। কাজের পর তিনি নিয়ম করে পড়াশোনা চালিয়ে যান।

যশভী জানিয়েছেন, তার জীবনে তার মামার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মামা ছিলেন সরকারি কর্মচারী, তাকে দেখে যশভীরও সিভিল সার্ভিসের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। তার বাবা-মা এবং পুরো পরিবার তার এই স্বপ্নকে সমর্থন করেছেন এবং আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। তাদের এই  সমর্থনই তাকে কাজ সামলে লক্ষ্যে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল। 

ইউপিএসসি প্রস্তুতির সময় যশভীর রুটিন অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। একদিকে তিনি যেমন একজন দন্তচিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন, অন্যদিকে সিভিল সার্ভিসের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন যশভী। ইউপিএসসি প্রস্তুতির সময় তিনি মূলত নোটস এবং প্র্যাকটিসের ওপর মনোযোগ দিয়েছিলেন। 

আরও পড়ুনঃ চাকরি ছেড়ে খাঁটি ঘি-এর ব্যবসা, বছরে ৪৩ কোটি টাকা আয় IIM পাস গোবিন্দর

ইউপিএসসি-এর প্রথম প্রচেষ্টায় অসফল হলেও, দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটে সর্বভারতীয় স্তরে ৯৭ র‍্যাঙ্ক (AIR 97) অর্জন করে যশভী দন্তচিকিৎসার পেশা ছেড়ে আজ একজন আইএএস অফিসার। চিকিৎসা ক্ষেত্র থেকে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করার পথটা মোটেই সহজ ছিল না, কিন্তু যশভির সাফল্য প্রমাণ করেছে যে কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং ধৈর্য থাকলে লক্ষ্য ঠিকই অর্জন করা যায়।