তৃণমূলের পার্টি অফিসে ১ কোটি টাকার হদিস, পাল্টা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব অভিষেকের

Published:

Abhishek Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা। মমতা তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হল ১ কোটিরও বেশি অর্থ (Diamond Harbour Cash Recovery)। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই শাসকদলের কটাক্ষের শিকার হলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ সেখানকার সাংসদ অভিষেক। তবে এবার তিনি চুপ থাকলেন না, টাকা উদ্ধার নিয়ে দাবি করলেন পরিকল্পিত ভাবে এত টাকা রাখা হয়েছে।

পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার টাকা

সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের বাড়ি থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বেশ কিছুদিন ধরেই সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন তাঁরা। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার সরিষায় একটি তৃণমূলের পার্টি অফিসে তল্লাশি অভিযান করেছিল পুলিশ। পার্টি অফিসটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের। এদিন তল্লাশি চলাকালীন পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা একটি আলমারির মধ্যে একটি ব্যাগ দেখতে পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। আর সেটা খুলতেই ব্যাগের মধ্যে দেখতে পান একগুচ্ছ টাকা।

তদন্ত নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক পুলিশ সুপারের

শেষ পাওয়া আপডেট সূত্রে জানা যাচ্ছে ওই টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। সাংবাদিক বৈঠকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার তিনি এই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এমনকি তিনি এও স্বীকার করেন যে, সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পার্টি অফিস থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে। এদিকে এত টাকা কীভাবে এখানে এল এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা শোরগোল শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় পার্টি অফিস থেকে নগদ উদ্ধার নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: নৈহাটিতে বন্ধ কালীপুজো চালু করতে বাধা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু নেতার, পাল্টা হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কদের

কী বললেন অভিষেক?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ছ’মাস আগে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হামলায় যে সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিই পুলিশের তদন্তে অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেই জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ও জাল প্রমাণ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা ন্যায়বিচারকে বাধা দেওয়া, পুলিশি তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং আইন-প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার এক নির্লজ্জ চেষ্টা। যাঁরা এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছেন এবং যাঁরা তাঁদের নির্দেশে এই কাজে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিতে চাই, প্রমাণ জাল করা, তদন্তকে প্রভাবিত করা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিটি কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।”

অভিষেক এদিন আরও লেখেন যে, “ রাজনৈতিক মদত, সরকারি পদ কিংবা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।” অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, “আমাদের প্রতিনিধি মইদুল ইসলাম আগেই পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেখানে উল্লেখ ছিল, দুষ্কৃতীরা আমাদের কার্যালয়টিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। তখনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম যে, এই দুষ্কৃতকারীরাই আমাদের কার্যালয়ের ভেতরে বেআইনি ও অপরাধমূলক বস্তু রেখে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা সাজানোর চেষ্টা করতে পারে।’ এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

google button