সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে কুণাল (Kunal Ghosh) আর ঋতব্রতর মধ্যে বলতে গেলে সাপে নেউলে সম্পর্ক! প্রতিদিন ‘বালিশ চাটা’, ‘চাটন ঋত’ ইত্যাদি নামে ঋতব্রতকে কটাক্ষ করেই চলেছেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল। তবে আজ স্বাধীনতা দিবসে এক ভিন্ন ধরনের মুহূর্তের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। কংগ্রেসের মেট্রোপলিটন কার্যালয় এখন ঋতব্রত শিবিরের দখলে। তবে সেই শিবিরে স্বাধীনতা দিবসে আজ হঠাৎ করে হাজির হলেন কুণাল ঘোষ। কেন তাঁর এই সারপ্রাইজ ভিজিট?
ঋতব্রত শিবিরে কুণাল ঘোষ
এদিন মেট্রোপলিটনের কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে ঋতব্রত তৃণমূল। তবে সেখানেই আচমকা হাজির হন কুণাল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তৃতা চলাকালীন কার্যালয়ের সামনে কুণাল ঘোষ গাড়ি দাঁড় করিয়েই সোজা পার্টি অফিসে হেঁটে ঢুকে যান। যদিও তাঁর আচমকা হাজিরে অনুষ্ঠানে কোনও রকম ব্যাঘাত ঘটেনি। এমনকি সেখানকার শহীদ বেদিতে পুষ্প অর্পণ করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। এমনকি তিনি বক্তৃতাও রাখেন সেখানে। তবে বড় বিষয় এই যে, যার সাথে তাঁর এখন শত্রুতার সম্পর্ক, সেই ঋতব্রত ব্যানার্জি আজ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন রেড রোডের কর্মসূচিতে।
না উল্লেখ করলেই নয়, কলকাতা মেট্রোপলিটনের এই পার্টি অফিসটি বিধায়ক কুণাল ঘোষের বেলেঘাটা বিধানসভার অন্তর্গতই। তবে সেই কার্যালয়টি এখন ঋতব্রত শিবিরের দখলে। সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই তিনি আজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। এমনকি তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “তপশিয়ার পুরনো ভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে দোলা সেনরা ছিলেন। ওখান থেকেই ফিরছিলাম। এই কার্যালয়ের সামনে দিয়ে ফেরার রাস্তা। দেখলাম পতাকা তোলা হচ্ছে তাই নেমে পড়লাম। আমাদেরই তো দলের অফিস। অসুবিধা কোথায়?”
আরও পড়ুন: বাল্যবিবাহ আটকে ফেরে পড়াশোনায়, পুরস্কার হিসেবে ‘কন্যারত্ন’ পেল সুন্দরবনের দুই ছাত্রী
প্রসঙ্গত, যেখানে মাত্র তিন মাস আগেই ঋতব্রত শিবির এবং কালীঘাট তৃণমূল বলে কিছু ছিল না, সবই ছিল একতার রাজনীতি, সেখানে নির্বাচনে ভরাডুবির পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নব্য তৃণমূল পেয়েছে বিরোধী দলের তকমা, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল হয়ে পড়েছে একঘরে। তবে কুণাল ঘোষের এই সারপ্রাইজ ভিজিট ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করা কীভাবে নিলেন তা স্পষ্ট নয়। এমনকি চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, “শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যে কেউ আসতে পারে। উনি এই এলাকার বিধায়ক। এখান থেকে যাচ্ছিলেন। পতাকা তোলা হচ্ছে বলেই দেখে নেমে পড়েছেন। এটাই তো গণতন্ত্র। এসেছেন তিনি। এটাই ভালো।”










