বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরই গাড্ডায় পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে নিজের দলের নাম এবং প্রতীক হারিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বেছে নিতে হয়েছে নতুন নাম এবং প্রতীক। এরই মাঝে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী করা সঞ্চিতা প্রধান দে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাথে সাক্ষাতের পরই নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এমতাবস্থায়, চাপে পড়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড় মন্তব্য করলেন মমতা।
বিস্ফোরক মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
শুক্রবার, সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের দলের নাম এবং প্রতীক হারানো নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। বলেন, “আমাদের 29 বছরের দল। এভাবে নাম এবং প্রতীক হারাতে হবে কোনও দিনও ভাবিনি। বিজেপির সাথে হাত মিলিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে নির্বাচন কমিশন! এটা সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। প্রথমে তো উদ্যোগ থাকলে দলটাকে ভাঙলো। এখন আমরা…”
এদিন বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য আমাদেরকে থ্রেট করা হয়েছে। বারবার থ্রেট পেয়েছি আমরা।” রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানালেন, যেটাই হয়েছে সবটাই চক্রান্ত। পুরোপুরি চক্রান্ত করে 29 বছরের দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং নাম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের হত্যা। এই ধরনের ঘটনা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে। আগামী দিনে লড়াই করবেন বলেও জানিয়েছেন মমতা।
আরও পড়ুন: “ওর মধ্যে এখন থেকেই এসব..” বৈভবকে নিয়ে বড় মন্তব্য রশিদ খানের
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করার ঘোষণা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সাথে ভোটের পর তৃণমূল ছেড়ে চলে যাওয়া বিধায়ক, সাংসদদের নিশানা করে মমতা বললেন, তৃণমূল কংগ্রেসটাকে ভাল বাসলে এমনটা করতে পারত না। নিজের মায়ের সাথে অন্যায় করল। প্রমাণ হয়ে গেল কে আসল তৃণমূল আর কে নকল তৃণমূল। মমতায় এও বললেন, যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে চলে গেছিল তাঁরা আসলে তৃণমূলটাকে শেষ করতে এসেছিল। এরা এখন কেসের হাত থেকে বাঁচতে বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাত্রী শেষমেশ জানিয়ে দিলেন, তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে বুকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচবেন।










