‘ক্ষমতা থাকলে সোজা বিজেপিতে যান..’ শহীদ মঞ্চে বিরোধীদের বিশেষ বার্তা মমতার

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকার বদলের পর আজ ১৫ বছর পর অভিনব ২১ জুলাই দেখছে গোটা বাংলা। কারণ এবার এক মঞ্চে নয়, তিন মঞ্চে পালিত হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশাপাশি এবার ‘একুশে জুলাই’ (21 July Rally) পালন করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। পালন করছে কংগ্রেসও। কাতারে কাতারে লোক জমছে কালীঘাটের শহীদ শিবিরের মঞ্চে। আর এবার এই জমায়েত মঞ্চে বিজেপিকে রীতিমত তুলোধনা করে ছাড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির বিরুদ্ধে শহীদ মঞ্চ ভাঙার অভিযোগ মমতার

প্রথমেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এরপরই বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রাত ১০টায় স্টেজ ভেঙে দেওয়া হয়, মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৬০০ জনের বাইক বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আমাদের IT সেল ও ছাত্র-যুব বাহিনী প্রাণ দিয়ে লড়াই করেছে। বিজেপি তারকাটা পার্টি। বিজেপির তরফে কর্মীকে মারধর করা হচ্ছে। আমার বাড়িতেও বিজেপির কর্মীরা আটকানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি।” পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “গতকাল রাতে হামলা হলেও কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ ছিল না। যদিও পুলিশের দোষ নেই, এখন সরকার এর জন্য দায়ী। তবে আমি বিজেপির মতো দলকে কেয়ার করি না।”

দলত্যাগীদের উদ্দেশে বিরাট বার্তা মমতার

জনসমক্ষে ঋতব্রতদের সরাসরি টার্গেট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দল না ভাঙিয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। আমার হাতে অনেক লোক আছে। সবাই চলে গেলেও আমার কোনও আক্ষেপ নেই। আমার হাতে ছাত্র-যুব সব রেডি আছে। এরপর আমি জেলায় জেলায় বের হব, কত ক্ষমতা আছে দেখতে চাই। আপনারা তো বালিশের মধ্যে লুকিয়ে থাকেন ইঁদুরের মতো। আর আমরা সুন্দরবনের বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করি। এটাই আপনাদের সঙ্গে আমাদের তফাৎ।” এরপরই কর্মী সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনও ছেলে মেয়েকে থাকার জায়গা করে দিতে পারিনি, বাস দিতে পারিনি, ট্রেনের টিকিট দিতে পারিনি কিন্তু ভালোবাসার টানে আপনারা আজ উপস্থিত হয়েছেন।”

আরও পড়ুন: পুরনো সরকারের আমলে পুলিশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, রিপোর্ট তলব নবান্নের

এদিনের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিরোধী শিবিরকে আরও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে। চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। আর ফেরত নেব না।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুললেন। তিনি বলেন, “বারুইপুর ধর্ষণের ঘটনায় আমি বারুইপুর যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার বাড়ির সামনে এক হাজার পুলিশ রেখে দিয়েছিল। আসলে সবটাই ছিল ভয়। তাই বিজেপি সরকার এই কাজ করল।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও এদিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নিশানা করতে ছাড়লেন না মমতা।