সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাস পূর্ণিমা ২০২৬ কবে (Rash Purnima 2026)? বাঙালির কাছে রাস পূর্ণিমায় ভক্তির ভিন্ন ভিন্ন ধারা একসঙ্গে মিলে যায়। বৈষ্ণব বিশ্বাসের এই রাতে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে গোপীদের সঙ্গে রাসলীলায় মেতেছিলেন। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের রাস পূর্ণিমা কত তারিখে পড়ছে, দিনক্ষণ কী রয়েছে, সময়সূচি কী রয়েছে এবং তাৎপর্য কী তা বিস্তারিত রইল এই প্রতিবেদনে।
রাস পূর্ণিমা ২০২৬ সময়সূচি
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রাস পূর্ণিমা পড়ছে আগামী ২৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি ৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩।
- পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৩ নভেম্বর রাত ১১:৪২ মিনিটে।
- পূর্ণিমা তিথি শেষ হচ্ছে ২৪ নভেম্বর রাত ৮:২৩ মিনিটে।
তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৪ নভেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার রাস পালনের উপযুক্ত দিন। আর এই দিন সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যাবেলা প্রদীপ দান করা উচিত।
উৎসবের নাম | রাস পূর্ণিমা ২০২৬ |
| ইংরাজি তারিখ | ২৪ নভেম্বর, ২০২৬ |
বাংলা তারিখ | ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩৩ |
| পূর্ণিমা শুরু | ২৩ নভেম্বর রাত ১১:৪২ |
পূর্ণিমা শেষ | ২৪ নভেম্বর রাত ৮:২৩ |
| বিশেষ মাহাত্ম্য | রাস উৎসব পালন |
কোথায় পালিত হয় | পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্য |
কেন রাস পূর্ণিমা তাৎপর্যপূর্ণ?
আসলে কার্তিক মাসকে হিন্দু পরম্পরায় সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে ধরা হয়। একই রাতে কয়েকটি ধর্মীয় স্মৃতি একসঙ্গে এসে মেলে বলেই এই দিনটির মর্যাদা এত বেশি। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, কার্তিক পূর্ণিমার রাতে শ্রীকৃষ্ণ যমুনার তীরে গোপীদের সঙ্গে রাসলীলা করেছিলেন। শ্রীমদ্ভাগবতে এই দিব্যনৃত্যের বর্ণনা রয়েছে। আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায়, এটি আত্মার সঙ্গে পরম আত্মার মিলনের এক রূপ। এই কারণে দিনটির সবচেয়ে পরিচিত নাম হল রাস পূর্ণিমা। ভক্তদের কাছে এটি ভজন এবং কীর্তনের রাত।
বাংলার বিখ্যাত রাস পূর্ণিমা
পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কিছু রাজ্যে রাস পূর্ণিমা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। নবদ্বীপে কার্তিক পূর্ণিমা পালিত হয় পট পূর্ণিমা নামে। পট মানে চিত্রিত কাপড় কিংবা পুঁথি। বহু বছর আগে বৈষ্ণব এবং শাক্ত ভক্তরা দেবদেবীর চিত্র আঁকা এই পটের পূজা করতেন। পরে নবদ্বীপে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে দক্ষ কুম্ভকাররা বসতি গড়লে মাটির প্রতিমা শিল্প গড়ে ওঠে এবং পট পূজা প্রতিমাকেন্দ্রিক রাস উৎসবে রূপ নেয়।
শান্তিপুরে রাসের ঐতিহ্য
এদিকে নবদ্বীপের পাশাপাশি শান্তিপুরও রাস উৎসবের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এখানকার পুজো এবং মণ্ডপ ও শয্যাগুলি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন বলেই বিশ্বাস করা হয়। কার্তিক পূর্ণিমার এই বিশেষ সময়ে শান্তিপুরে ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। কীর্তন ভজন থেকে শুরু করে লোকসংস্কৃতির চল রয়েছে এই দিনটিতে।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে কবে পড়ছে দুর্গাপুজো? জেনে নিন মহালয়া থেকে বিজয়া দশমীর দিনক্ষণ
বাড়িতে কীভাবে পালন করবেন এই বিশেষ দিন?
মন্দিরে যাওয়া যদি সম্ভব না হয়, তাহলে বাড়িতেই এই রাস পূর্ণিমা মর্যাদার সঙ্গে পালন করা যায়। তার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়—
- প্রথমে সূর্যোদয়ের আগে স্নান করুন। নদীতে যাওয়া সম্ভব না হলে বাড়ির স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে নিন।
- এরপর তুলসী তলায় দাঁড়িয়ে দরজায় ও পুজোর স্থানে ঘি বা তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালান।
- অনেক বাড়িতে এদিন শিব এবং বিষ্ণুর পূজা করা হয়। সাধারণত ফুল, ধূপ, নৈবেদ্য দিয়ে পূজা করুন।
- এবার বিষ্ণুর সহস্রনাম, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ এবং শিব স্তোত্র পাঠ করুন।
- কার্তিক মাসে দানের বিশেষ মাহাত্ম্য থাকায় খাবার, কাপড়, চাল বা প্রদীপ দান করুন।
- সূর্যাস্তের পর আবার প্রদীপ জ্বালান। চাঁদ উঠলে জল দিয়ে চন্দ্রকে অর্ঘ্য প্রদান করুন।
- এই দিনটিতে উপবাস রাখার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।










