পিতৃপক্ষ ২০২৬ কত তারিখে শুরু হচ্ছে? জেনে নিন তর্পণ করার মাহাত্ম্য

Published:

Pitru Paksha 2026

সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ। তবে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে পিতৃপক্ষ কত তারিখে শুরু হচ্ছে (Pitru Paksha 2026)? শাস্ত্র বা পুরাণমতে কীভাবেই বা করবেন পিতৃপক্ষের তর্পণ? আসলে পিতৃপুরুষ, পূর্বপুরুষ, ঋষি বা বাবা-মা তুষ্ট হলে তাঁদের আশীর্বাদে জীবদ্দশায় দীর্ঘায়ু, সন্তান, ধন-সম্পত্তি এবং শান্তি লাভ হয় বলেই বিশ্বাস করা হয়। সনাতন ধর্মে দেবীপক্ষের সূচনার এই বিশেষ পক্ষকাল পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত। প্রয়াত পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্যই পবিত্র এই দিনটি। জেনে নিন, এ বছর কবে শুরু হচ্ছে পিতৃপক্ষ।

পিতৃপক্ষ ২০২৬ কত তারিখে? (Pitru Paksha 2026 Date And Time)

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী পিতৃপক্ষের দিনক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী—

  • পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার।
  • বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুরু হচ্ছে ৯ আশ্বিন ১৪৩৩।
  • পিতৃপক্ষ শেষ হচ্ছে ১০ অক্টোবর শনিবার।
  • বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শেষ হচ্ছে ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩।
  • পিতৃপক্ষ শুরু হবে রাত ১০:২০ মিনিটে।
  • পিতৃপক্ষ শেষ হবে রাত ৯:২০ মিনিটে।

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী

  • পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার।
  • বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুরু হচ্ছে ৮ আশ্বিন ১৪৩৬।
  • পিতৃপক্ষ শেষ হচ্ছে ১০ অক্টোবর, শনিবার।
  • বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শেষ হচ্ছে ২২ আশ্বিন ১৪৩৬।
  • পিতৃপক্ষ শুরু হবে রাত ১০টা ৪ মিনিট ৮ সেকেন্ডে।
  • পিতৃপক্ষ শেষ হবে রাত ৮টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে।

পিতৃপক্ষে কেন তর্পণ করা উচিত?

আসলে পূর্বপুরুষ, পিতা-মাতা বা গুরুদের উদ্দেশ্যে এদিন খাদ্যদ্রব্য বা জল নিবেদন করার পদ্ধতিকে তর্পণ বলা হয়। পিতৃপক্ষের পৌরাণিক গাম্ভীর্য লুকিয়ে রয়েছে মহাভারতের উপাখ্যানে। মহাবীর কর্ণ মৃত্যুর পর স্বর্গে গমন করেছিলেন। আর সেখানে তাঁকে খাদ্যের বদলে প্রচুর সোনা এবং রত্ন উপহার দেওয়া হয় বলেই কথিত রয়েছে। এমনকি বিস্ময়ে কর্ণ দেবরাজ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ইন্দ্র তখন জানিয়েছিলেন, জীবনভর কর্ণ কেবলমাত্র সোনা ও ঐশ্বর্য দান করে গিয়েছেন। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে কখনও অন্ন বা জল অর্পণ করেননি।

সেই সময় কর্ণ বিনীতভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের জন্মপরিচয় জানতেন না। তাই বাধ্য হয়ে তিনি পিতৃপুরুষদের তর্পণ করতে পারেননি। এরপর দেবরাজ তাঁকে ১৫ দিনের জন্য মর্তে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর সেই সময়জুড়েই কর্ণ ভক্তিভরে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন, বস্ত্র, জল ইত্যাদি দান করেছিলেন। মর্তলোকে কর্ণের সেই ১৫ দিন পিতৃপক্ষ হিসেবেই পরিচিত। এই সময়কালে মানুষ পূর্ব-পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকেন।

আরও পড়ুন: ছট পূজা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ ও ব্রত পালনের নিয়ম

এদিকে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার পালিত হবে মহালয়া। এই দিনই দেবীপক্ষের শুভ সূচনা। এটি পিতৃপক্ষের একেবারে অন্তিম লগ্ন। যাঁদের পূর্বপুরুষদের নির্দিষ্ট কোনও মৃত্যু তিথি জানা নেই, তাঁরা শাস্ত্র মতে অমাবস্যায়, অর্থাৎ মহালয়ার দিনটিতে তর্পণ বা শ্রাদ্ধকর্ম সম্পন্ন করতে পারেন। এতে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।