তিন কারণে দিল্লিকে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে পৌঁছল ইস্টবেঙ্গল

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মহম্মদ রশিদ বল জালে জড়িয়ে দিতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। লাল হলুদের নতুন কোচ হিসেবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। এ সবই গতকালের ছবি। ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) সেমিফাইনালে দিল্লিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে মশাল সেনা। সেই আসরে ডার্বি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে তার আগে লাল হলুদের এই বড় সাফল্যের নেপথ্যে থাকা মূল কারণগুলিতে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

যে কারণে দিল্লিকে হারিয়ে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

আগেই ভারতীয় সেনাবাহিনীকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ইস্টবেঙ্গল। গতকাল যুবভারতীতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দিল্লির মুখোমুখি হয়ে শত চেষ্টা করেও পূর্ণ সময়ের খেলায় গোল করতে পারেনি লাল হলুদ। গোলের মুখ খুলতে পারেনি প্রতিপক্ষ দলটিও। যার ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। আর সেখান থেকেই দিল্লিকে 5-3 ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল লাল হলুদ। আর এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দেখে নিন এক নজরে—

গোলরক্ষকের দক্ষতা

ইস্টবেঙ্গলের অতি পরিচিত গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল গতকাল ম্যাচের প্রথমার্ধে 35 মিনিটের খেলায় দিল্লির পেনাল্টি রেখে দিয়েছিলেন। নিজের দক্ষ হাতে গোটা ম্যাচে গোলপোস্ট আগলে রেখেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষ দলটির একের পর এক শট গোল হওয়ার আগেই আটকে দেন তিনি। মূলত সে কারণেই গতকাল শেষ মুহূর্তে সহজ জয় পেয়েছে লাল হলুদ।

টাইব্রেকারে নিখুঁত শট

গতকাল গোটা ম্যাচে গোল করার সাধ্যমত চেষ্টা করার সাথে সাথে টাইব্রেকারে নিজেদের একেবারে নিংড়ে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্লেয়াররা। এদিন গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক নিখুঁত শট করেছিলেন আনোয়ার আলী, রোহিত দানু, লালচুংনুঙ্গা, ক্রিস্টোফার আইকোনোমিডিস এবং সবশেষে অধিনায়ক মহম্মদ রশিদ। আর সেই সূত্র ধরেই জয় হাসিল করেছে লাল হলুদ।

আরও পড়ুন: ক্রিকেটে প্রথম, পাকিস্তানের ১০ উইকেট তুলে বল কেটে ভাগ করে নিলেন দুই বোলার

প্রতিপক্ষের উপর চাপ বজায় রাখা

গতকালের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের অন্যতম কারণ লাল হলুদের আক্রমণ ভাগ। এ দিনের ম্যাচে গোল করতে না পারলেও একেবারে শুরু থেকেই বারবার আক্রমণে গিয়ে প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়িয়ে রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই সূত্রেই সহজে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দিল্লি। সব মিলিয়ে বলাই যায়, ইস্টবেঙ্গল প্লেয়ারদের সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইই তাঁদের ফাইনালে পৌঁছে দিল।