বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আর্থিক সমস্যার মুখে একেবারে ডুবতে বসেছিল কলকাতা ময়দানের অন্যতম প্রধান দল মহামেডান স্পোর্টিং (Mohammedan SC)। এই অবস্থা থেকে দলটির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবীর (Humayun Kabir)। একেবারে নিজে থেকেই ক্লাবের সমস্ত আর্থিক সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন তিনি। ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন 25 কোটি টাকার কয়েকটি চেক। তবে নিয়ম মেনে সেই চেক ভাঙাতে ব্যাঙ্কে গেলে পরপর বাউন্স হয়ে যায় প্রত্যেকটি। আর সেই ঘটনায় এবার হুমায়ুন কবীরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে একপ্রকার তাড়িয়ে দিলেন মহামেডান কর্তারা।
হুমায়ূনকে তাড়াল মহামেডান!
দলের দুর্দশা দেখে নিজে থেকেই এগিয়ে এসেছিলেন হুমায়ুন কবীর। কথা দিয়েছিলেন, মহামেডান স্পোর্টিং এর সমস্ত আর্থিক সমস্যা মিটিয়ে দেবেন তিনি। আর এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে পেয়েছিলেন দলটির সভাপতির চেয়ার। সেই চেয়ারে বসেই একের পর এক মন্তব্য করেছেন হুমায়ূন। সূত্রের খবর, কয়েক দফায় ক্লাবের আর্থিক সমস্যা দূর করতে চেক দিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। তবে জানা গিয়েছে, নতুন সভাপতির কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যেকটি চেক বাউন্স করে। তাতে অস্বস্তিতে পড়েন ক্লাব কর্তারা।
এর মাঝে একের পর এক চেক বাউন্স করে যাওয়ায় হুমায়ূন কবীরকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্তারা। খুব সম্ভবত সেখানে বলা হয়েছিল, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন হুমায়ূন! তবে সেই চিঠির পাল্টা ইতিবাচক সাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসে কলকাতা ময়দানের অন্যতম প্রধান দলটির কর্তারা। আর সেখানেই ঠিক হয় হুমায়ূনকে সভাপতি পদ থেকে সরানো হবে।
অবশ্যই পড়ুন: “কে ফিরিয়ে দেবে ২২টা বছর?” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বেকসুর খালাস তিন খুনের আসামি
জানা যাচ্ছে, দিনের পর দিন ধরে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও চেক থেকে টাকা না পেয়ে একেবারে তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন মহামেডান স্পোর্টিং দলটির কর্তারা। এর মাঝে বেশ কয়েকবার হুমায়ূনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও নাকি ফোন ধরেননি তিনি! এমনকি জরুরী বৈঠকেও ডাকা হয়েছিল তৃণমূল ত্যাগী নেতাকে। সেখানেও আসেননি তিনি। মূলত সে কারণেই এবার বাধ্য হয়ে একপ্রকার হুমায়ূনকে তাড়িয়ে নতুন সভাপতির পদে বসানো হল গজল জাফরকে।










