অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: আজ থেকে ২২ বছর আগে ওড়িশার নবরঙ্গপুর থানার অন্তর্গত হিরলি গ্রামে তিন ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে (Nabarangpur triple murder case) অভিযুক্ত অর্জুন জানি (Arjun Jani) দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দী থাকার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ছাড়া পেয়েছেন। এই বিচার সংক্রান্ত ত্রুটির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে যে, যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ২২ বছরের জন্য একজন ব্যক্তির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়।
২২ বছর পর শীর্ষ আদালতের নির্দেশে খালাস অর্জুন জানি
২০০৪ সাল নবরঙ্গপুর থানার অন্তর্গত হিরলি গ্রামে তিনজন মহিলাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর, একজন মাত্র সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী অর্জুন জানি নামের ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে দেখেছেন বলে দাবি করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো ব্যক্তিকে এভাবে কারাবন্দী করে রাখা দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি সম্মিলিত ব্যর্থতা।
আরও পড়ুন: ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু কুখ্যাত মাফিয়া আতিক আহমেদের ছোট ছেলের
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, নবরঙ্গপুর থানার পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাঁকে সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ‘থার্ড-ডিগ্রি’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের বেধরক মারের পর অর্জুন জানি যে স্বীকারোক্তি দেন, তার ওপর ভিত্তি করেই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের মামলাটি দাঁড়িয়েছিল। এর ফলে অর্জুন জানি দোষী সাব্যস্ত হন ও দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ওই তিনজন মহিলাকে হত্যার দায়ে তিনি ২২ বছর জেল খেটেছেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবির জের, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের পথে পুলিশ?
তদন্তের সাথে সম্পর্কিত প্রমাণ ও পরিস্থিতিগুলি পুনর্বিবেচনার পর সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের বাইরে গিয়ে অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। সমস্ত অনুসন্ধানের পর সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা, বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি এস.কে. সিং-এর বেঞ্চ রায় দিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য এবং আইনসম্মত প্রমাণের অভাবে এই দণ্ডাদেশ আর বহাল রাখা হবে না। সমস্ত অভিযোগ থেকে অর্জুন জানিকে খালাস দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কেবল যে তাঁর স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে তা নয়, তার সঙ্গে একজন নিরপরাধ মানুষের ২২ বছর নষ্ট করার জন্য বিচারব্যবস্থার ত্রুটিগুলিরও তীব্র সমালোচনা করেছে।










