সহেলি মিত্র, কলকাতা: আর মাত্র কিছুটা সময়, ব্যস তারপরেই এল নিনো (El Niño)-র ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে বিশ্বে। হাহাকার পড়ে যাবে সর্বত্র বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনিতেই এই আবহাওয়া সিস্টেমটির ফলে চলতি বছর ভারতের বাংলা সহ বহু জায়গায় বৃষ্টির ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। সেইসঙ্গে গরম যেন কিছুতেই কমতে চাইছে না। তবে এসব তো ট্রেলার মাত্র, আসল খেলা শুরু হতে খুব বেশি দেরি নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদরা ১৪৮ বছর আগে ঘটে যাওয়া সুপার এল নিনো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন, যা বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।
ধেয়ে আসছে সুপার এল নিনো!
এমনিতেই ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে সর্বত্র। নিত্য নতুন রেকর্ড ভাঙছে পারদ। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীর। এদিকে প্রায় ১৫০ বছর আগে পৃথিবী এমন এক আবহাওয়াগত বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল, যা আজও কল্পনা করলে মানুষ শিউরে ওঠে। সমগ্র বিশ্ব এক বিরল সুপার এল নিনো প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছিল। পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি বেড়ে গিয়েছিল। সর্বত্র দুর্ভিক্ষ, খরা এবং অনাহার দেখা দিয়েছিল। সুপার এল নিনো এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল যে, যন্ত্রণাদায়কভাবে ৫০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। শুধু ভারতেই ১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। খুব শীঘ্রই আবারও এরকম পরিস্থিতি আসতে চলেছে বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে হবে জমির অদল-বদল? সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন প্রস্তাবনা কেন্দ্রের
সূত্রের খবর, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে আসন্ন ‘সুপার এল নিনো’ গতবারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে পারে, যার কারণে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে ১৮৭৭ সালের এল নিনো ছিল নথিভুক্ত ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জলবায়ু ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ‘মহা দুর্ভিক্ষ’ নামে পরিচিত একটি বিশ্বব্যাপী মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। জলবায়ু পুনর্গঠন থেকে দেখা যায় যে, প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রধান অঞ্চলের জলের তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাঘাত ঘটেছিল। এর ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট এবং রোগের প্রাদুর্ভাবে তৎকালীন পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ মারা গিয়েছিল। যদি আজ এমনটা ঘটে, তবে মৃতের সংখ্যা হবে কমপক্ষে ২৫ কোটি।
সুপার এল নিনো ফিরে এলে কী হবে?
এখনকার পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে যে, এই বছরের শেষের দিকে জলের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এরও বেশি হতে পারে। এর ফলে আসন্ন সুপার এল নিনোটি প্রায় ১৫০ বছর আগেরটির চেয়েও আরও বেশি শক্তিশালী হবে। এই বিষয়ে ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক দীপ্তি সিং ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে, ১৮৭০-এর দশকের মতো বহু বছরব্যাপী খরা আবার দেখা দিতে পারে।










