একধাক্কায় দ্বিগুণ! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে দুর্গাপুজোয় বিরাট উদ্যোগ

Published:

ANNAPURNA CM

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের প্রাচীন মহিলা পরিচালিত ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম হলো অদ্রিজা ক্লাব। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখতে এই বছরও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্লাবের সদস্যরা। তবে এবারের পুজোয় অন্যতম আকর্ষণের জায়গা হচ্ছে পুজোর বাজেট। ক্লাবের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার পুজোর খরচ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। নেপথ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা।

অন্নপূর্ণা যোজনায় বাড়লো বাজেট?

২০২৫ সালে যেখানে পুজোর বাজেট ছিল প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা, সেখানে ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকায়। ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যই গরিব পরিবারের মহিলা। তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Yojona) প্রকল্পের সুবিধা পান। সদস্যদের একাংশ জানিয়েছেন, ওই প্রকল্প থেকে পাওয়া দু’মাসের ৬ হাজার টাকার অর্থের কিছুটা তাঁরা এবারের পুজোর আয়োজনে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাজেট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুজোর আয়োজনেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ক্লাবের সদস্যরা। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবার আরও ভালো আয়োজন করার চেষ্টা করছেন সদস্যরা। সম্প্রতি অদ্রিজা ক্লাবে মণ্ডপের খুঁটিপুজোও সম্পন্ন হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে ক্লাবের মহিলা সদস্যদের উপস্থিতি ছিল একেবারে দেখার মতন। খুঁটিপুজোর পর থেকেই পুজোর প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে। পুজোর খরচের জন্য চাঁদা সংগ্রহের কাজও শুরু করেছেন ক্লাবের সদস্যরা। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গ্রামবাসীরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে পুজোর আয়োজনে সহযোগিতা করছেন।

স্বনির্ভরতার পথে মহিলা পরিচালিত ক্লাব

অদ্রিজা ক্লাবের সভাপতি নুপুর সামন্ত বলেন, তাঁদের ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যই প্রান্তিক পরিবারের মহিলা। সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাওয়ায়, তাঁদের কিছুটা অর্থ স্বাধীনতা দিয়েছে। সেই অর্থের একটি অংশ পুজোর কাজে ব্যবহার করায় এবারের আয়োজন আরও বড় করে করার সুযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি নতুন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ক্লাবের সম্পাদক রেখা দাসও জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে পাওয়া অর্থের কারণে এবারে তাঁরা আরও ভালোভাবে পুজোর আয়োজন করতে পারছেন।

আরও পড়ুন: ‘একেই বলে ঢাক সহ ঢাকি বিদায়’ নাম না করে তৃণমূল সহ মমতাকে কটাক্ষ ভাস্কর ঘোষের

মহিষাদলের এই মহিলা পরিচালিত পুজো দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পরিচিত। এবার বাজেট বাড়ায় প্রতিমা থেকে মণ্ডপ এবং আলোকসজ্জা, সবকিছুতেই অভিনবত্ব আনার চেষ্টা চলছে। সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার একটি অংশ পুজোর আয়োজনে কাজে লাগাতে পেরে সদস্যদের মধ্যেও উৎসাহ খানিক বেড়েছে বৈকি। চাঁদা সংগ্রহ থেকে শুরু করে মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতি, সব কাজেই মহিলারাই সামনে দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁদের আশা, এবারের আয়োজন আরও বেশি মানুষের নজর কাড়বে, মহিষাদলের দুর্গাপুজোর তালিকায় অদ্রিজা ক্লাবের পুজো অন্যতম হয়ে উঠবে।