সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পর রাজ্যজুড়ে এখন চলছে আয়ুষ্মান ভারতের (Ayushman Bharat) ফর্ম ফিলাপ। ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা দেবে কেন্দ্র সরকার। স্বাস্থ্যসাথীর জায়গায় আসছে এই প্রকল্প। তবে এ নিয়ে এবার সমস্যায় পড়েছেন আশাকর্মীরা (Asha Workers)। রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আরও বেশি সংখ্যক উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এবার তাদের উপরেই দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া আর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে যে টার্গেট দেওয়া হচ্ছে তা পূরণ করতে অপারক আশাকর্মীরা। তুলছেন অভিযোগ।
বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রি-ফিল ফর্ম
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রকল্পের জন্য মোট তিন ধরনের আবেদনপত্র তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি বিশেষ আবেদনপত্রে উপভোক্তার নাম এবং আধার নম্বর আগে থেকে উল্লেখ করা রয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত রেশন কার্ডধারীদের তথ্যের ভিত্তিতেই সেই ফর্ম তৈরি করা হয়েছে। আর এই ফর্ম নিয়ে আশাকর্মীদের নির্দিষ্ট উপভোক্তদের বাড়িতেও পাঠানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আবেদনপত্র যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ আর অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
পুরসভা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, এই কাজে প্রায় ৫৮০ জন আশাকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে। আর প্রত্যেকের জন্যই দৈনিক ৫০টি বাড়িতে এই ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা ঠিক কতটা সম্ভব তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের বাড়িতে একাধিকবার যেতে হতে পারে। আবার তথ্য যাচাইয়ের কাজও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশাসন সূত্রে আরও খবর, চলতি মাসের ৩০ জুনের মধ্যেই নির্ধারিত আবেদনপত্র বিতরণ এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তারপর সংগৃহীত আবেদনপত্রগুলি সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেওয়া হবে। সেখানেই নথিপত্র যাচাই এবং বিভিন্ন তথ্যের মিল খতিয়ে দেখে কাজ সম্পন্ন হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশের দাবি, রাজ্যের তরফ থেকে নিয়মিতভাবে নতুন আবেদনপত্র পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত ৬০০ টিরও বেশি প্রি-ফিল ফর্ম বিভিন্ন এলাকায় পৌছাচ্ছে। আর সেই ফর্মগুলি আশা কর্মীদের মাধ্যমে উপভোক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে প্রতিদিন তাদের উপর কাজের চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: গোপনাঙ্গে গুলি, পাথর, কাঠ! বিহারে গণধর্ষণের শিকার মহিলা, অধরা অভিযুক্তরা
তবে এই বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য আশাকর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে খবর। কীভাবে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে, কোন কোন তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, উপভোক্তাদের কীভাবে প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে সেই সম্পর্কে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই অতিরিক্ত কাজের জন্য আশাকর্মীদের আবার বিশেষ সাম্মানিকও দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই অর্থের পরিমাণ ঠিক কতটা হবে সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।










