ইটের বাড়ি হলেও মিলবে আবাস যোজনার টাকা, রাজ্যের নয়া ঘোষণা

Published:

PM Awas Yojana For brick walled house

অনন্যা সরকার, কলকাতা: এতদিন নিয়ম ছিল মাটির দেওয়াল যুক্ত কাঁচাবাড়ি ছাড়া আর কোনো ধরনের বাড়ির মালিকরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) আওতায় আসতেন না। তবে এবার রাজ্যের যেসমস্ত প্রান্তিক মানুষের পাকা ছাদহীন ইটের দেয়ালের বাড়ি রয়েছে, তাদের জন্য সরকার দিল সুখবর। এবার থেকে ইটের দেওয়ালের বাড়ি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আর্থিক সাহায্য মিলবে। সাহায্যের টাকা দিয়ে মাথার উপর একটি মজবুত ছাদ গড়ার সুযোগ পাবেন তাঁরা।

এবার ইটের দেয়ালের বাড়ির জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার  সাহায্য মিলবে

পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে জুড়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আর্থিক সাহায্য প্রাপকের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট পোর্টালে সুবিধাভোগীদের নাম তোলা হচ্ছে। এছাড়া আবেদনকারীরা স্ব-সমীক্ষা মাধ্যমে নিজেরাও অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার সুবিধা পেয়েছেন। এতদিন অবধি যাঁদের সম্পূর্ণ কাঁচাবাড়ি রয়েছে, তাঁদেরই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছিল। কোনো দরিদ্র ব্যক্তির বাড়ি ইটের দেওয়াল দেওয়া হলে, তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করতে সমস্যা হচ্ছিল সমীক্ষকদের। 

আরও পড়ুন: যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন…; অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরাট আপডেট

এক্ষেত্রে, টিম বা খড়ের চালের সঙ্গে সামান্য ইটের দেওয়াল থাকলে সেটিকে কাঁচাবাড়ি ধরা হবে, না পাকাবাড়ি – সেটাই বুঝে উঠতে পারছিলেন না সমীক্ষকেরা। এই সমস্যায় ঘোচাতে রাজ্যের পক্ষ থেকে কেন্দ্র সরকারের কাছে চিঠি গেছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এর আগে নবান্ন সভাঘরের বৈঠকে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার, কেন্দ্রের তরফে এই সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেয়ে বুধবার রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন যে, যাদের বাড়ির দেওয়ালে সামান্য ইটের গাঁথনি রয়েছে বা পুরোটাই পাকা দেওয়াল, কিন্তু কোনও পাকা ছাদ নেই, তাঁরা আবাস যোজনার টাকা পাবেন। প্রসঙ্গত, আগের সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম বদল করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের নির্দেশ মানতে আপত্তি, ধর্মীয় অবমাননার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া

জানিয়ে রাখি, বৃহস্পতিবারই এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকার দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার করে টাকা পাঠাবে। আগের সরকার এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ১৮ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে ১০ লক্ষ উপভোক্তা লিন্টেল স্তর পর্যন্ত কাজ শেষ করে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য হয়েছে। বাকি ৮ লক্ষ উপভোক্তার বাড়ির কাজ লিন্টেল পর্যন্ত হলে বাকি কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া, সমীক্ষায় বাদ গেছে একাধিক আবেদন। পঞ্চায়েত মন্ত্রীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন সভাঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপকদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেবেন।