আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সম্প্রতি ব্যান্ডেলের (Bandel) বেসরকারি ব্যাঙ্কে নকল FD সার্টিফিকেট বানিয়ে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওই ব্যাঙ্কেরই কর্মী নিখিল গুপ্তা। গ্রাহকদের দাবি, ব্যাঙ্কে বসেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করানোর ব্যবস্থা করতেন অভিযুক্ত কর্মী। টাকা জমা দেওয়ার পর গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হত ব্যাঙ্কের প্যাডে তৈরি FD সার্টিফিকেট ও রসিদ। সেই নথিতে ব্যাঙ্কের নাম, কর্মীর এমপ্লয়ি কোড এবং স্ট্যাম্পও ছিল বলে অভিযোগ। ফলে নথিগুলি দেখে কোনও সন্দেহ হয়নি গ্রাহকদের। কিন্তু পরে সেই FD-র কাগজপত্র নিয়ে ব্যাঙ্কে যাচাই করতে গিয়ে কার্যত মাথায় হাত পড়ে তাঁদের।
এক ধাক্কায় কয়েক লক্ষ টাকা উধাও
গ্রাহকদের একাংশ তাঁদের FD সংক্রান্ত নথি যাচাই করতে ব্যাঙ্কে যান, আর এখান থেকেই প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ, নথি হাতে থাকলেও ব্যাঙ্কের রেকর্ডে তাঁদের নামে সংশ্লিষ্ট FD-র কোনও অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ গ্রাহকেরা যে টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন বলে ভেবেছিলেন, সেই টাকা ব্যাঙ্কের হিসাবে জমাই পড়েনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই একের পর এক গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসতে শুরু করেন। জানা গিয়েছে, কয়েকজন গ্রাহকের জমা করা টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক দশক লক্ষ টাকা। এক গ্রাহকের দাবি, তাঁর প্রায় সাড়ে ২৫ লক্ষ টাকা FD করা হয়েছিল। আরেক গ্রাহক প্রায় ১২ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্য একটি পরিবারের দাবি, তাঁদের একাধিক সদস্য মিলে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা FD করেছিলেন। তবে সব মিলিয়ে মোট টাকার পরিমান কত, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ নিখিল গুপ্তাকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের FD বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। অভিযোগ, তাঁর মাধ্যমেই একাধিক গ্রাহক FD করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের হাতে প্রয়োজনীয় নথিও দেওয়া হয়েছিল। ফলে কীভাবে ব্যাঙ্কের নাম, স্ট্যাম্প এবং অন্যান্য নথি ব্যবহার করে এই ধরনের জালিয়াতি করা হল, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার একাধিক গ্রাহক ব্যান্ডেল মোড়ের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে নিখিল গুপ্তার উপর ভরসা করে তাঁরা টাকা জমা করেননি। তাঁরা ব্যাঙ্কের উপর বিশ্বাস রেখেই সঞ্চয়ের টাকা FD করেছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাঙ্কের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া একজন ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কোনও সন্দেহ করেননি। এখন নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা কীভাবে ফেরত পাবেন, তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই অ্যাকাউন্টে বেতন ও পেনশন, কত শতাংশ হারে DA? জানিয়ে দিল নবান্ন
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক নথিপত্র, স্ট্যাম্প এবং কর্মীর পরিচয় নিয়ে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ব্যবহার করার পরেও কীভাবে গ্রাহকদের FD-র টাকা ব্যাঙ্কের রেকর্ডে জমা পড়ল না? পুলিশ গোটা বিষয়টি তদন্ত করছে। একইসঙ্গে ব্যাঙ্কের তরফেও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কতজন গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন বা মোট কত টাকার অনিয়ম হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে কয়েক কোটি টাকা উধাও হওয়ার যে দাবি ঘুরছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে নিশ্চিত অঙ্ক হিসেবে বলা যাচ্ছে না। আপাতত সবটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।










