শস্য বিমায় কৃষকদের আর দিতে হবে না প্রিমিয়াম, পুরোটাই বহন করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

Published:

PM Fasal Bima Yojana West Bengal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য দ্বার খুলে। পাল্টে যাচ্ছে পূর্বতন সরকারের প্রকল্পগুলির রূপও। এবার তৃণমূল সরকার আমলে শুরু হওয়া ‘বাংলা শস্য বিমা’ প্রকল্পটিকে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PM Fasal Bima Yojana / PMFBY)-এ রূপান্তর করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে আর কৃষকদের কোনো প্রিমিয়াম দিতে হবে না, পুরো খরচটাই বহন করবে রাজ্য সরকার। জানিয়ে রাখি, এর আগে ‘বাংলা শস্য বিমা’র ক্ষেত্রেও রাজ্যই পুরো প্রিমিয়াম দিত। কিন্তু, দেশের যেসমস্ত রাজ্যে বর্তমানে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা’ চালু আছে, সেখানে কৃষকদেরই প্রিমিয়াম দিতে হয়। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গই হতে চলেছে প্রথম বিজেপি শাসিত রাজ্য, যেখানে কৃষকদের স্বার্থে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম যোগাবে সরকারই।   

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করছে রাজ্য

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে চাষ বা উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলে, কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকার সরাসরি পাঠিয়ে দেয় ক্ষতিপূরণের টাকা। বিমার টাকা পেতে প্রতিবারই নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা দিতে হয় কৃষিজীবীদের। ‘বাংলা শস্য বিমা’-এর এই নিয়মগুলি অপরিবর্তিতই রাখছে সরকার।  রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, রাজ্যে শীঘ্রই চালু হবে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা। এর জন্য বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে একটা বিষয় ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কৃষকদের কোনো প্রিমিয়াম দিতে হবে না। তাঁদের হয়ে টাকা দেবে রাজ্য সরকারই।

আরও পড়ুন: রাজ্যে আবার চালু হবে মর্নিং স্কুল? বড় ইঙ্গিত সরকারের

এই বিমার কারণে প্রায় প্রত্যেক বছর বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া লক্ষ লক্ষ কৃষকের অনেকটা আর্থিক সুরাহা হয়। আগামী মরশুমে কৃষিজীবীরা যাতে দ্রুত বিমার আবেদনপত্র পূরণ করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করবে বলে জানানো হয়েছে। তাই নবান্নও বিমা সংস্থার সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সেরে ফেলার জন্য উদ্যোগী হয়েছে।

 আরও পড়ুন: এবার ‘সমুদ্র মন্থন’ করবে মোদী সরকার, তেল-গ্যাস খুঁজতে ৮০ হাজার কোটির প্রকল্প

কোন কোন নতুন ফসলের ক্ষেত্রে বিমার প্রিমিয়ামের টাকা মেটাবে রাজ্য? 

এই প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হল যত বেশি সম্ভব কৃষককে সাহায্য করা। এই দিকটি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ধান থেকে শুরু করে আলু – সব ফসলের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো বছর ১ লক্ষ তো কোনো বছর তার তুলনায় অনেক বেশি কৃষককে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। কোনো অঞ্চলে কৃষিকাজে ক্ষতি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে যাচাই করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তের জন্য স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যও নেওয়া হয়।